হারিয়েছে উৎসব, জীর্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই মন্দির
হারিয়েছে উৎসব, জীর্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই মন্দির
কথায় আছে দামী জিনিসের কদর মেলেনা। হ্যাঁ সত্যি তাই।তার সবথেকে বড় উদাহরণ হলো কিছুটা এইরকম।
দক্ষিণ কলিকাতার টালিগঞ্জ। দক্ষিণ কলিকাতা নিবাসী সকলেই আমরা কম বেশি চেতলা-টালিগঞ্জ এলাকার নাম জানে আর এমন এলাকায় ২৬৫ বছরের কলিকাতার ইতিহাস লুকিয়ে অনেকেই অবগত নয়।
দক্ষিণ কলিকাতার টালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ৩ টি মন্দির।
(১) ছোট রাস বাড়ি, (২) বড় রাস বাড়ি (৩) রাধকান্ত মন্দি
রাজপুত আক্রমনকালে ব্রিটিশদের সহায়তা করায় ব্রিটিসরা পুরস্কারস্বরূপ বাওয়ালির মণ্ডলদের একলক্ষ হেক্টর জমি দিয়েছিলেন। ১৭১০ সালে রবার্ট ক্লাইভের আমন্ত্রণে বাওয়ালি বংশধর রামনাথ মন্ডল এবং মানিক মন্ডল টলিগঞ্জে বসতি স্থাপন করেন।

সপ্তদশ শতকে প্রাচীন কলকাতার বাওয়ালি জমিদার পরিবার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এই মন্দির গুলি। ছোট রাস বাড়ি মন্দির চত্তরটি আদি গঙ্গার পাশেই।মন্দিরের সামনেই রয়েছে তৎকালীন তৈরি রাসবাড়ি ঘাট। আর ঘাট নেমে গিয়েছে আদি গঙ্গায়। থুড়ি আদি গঙ্গা বলা যাবেনা, এখন এই আদি গঙ্গাই টালিগঞ্জের পচা টালিনালা নর্দমা।
বাওয়ালি বংশোদ্ভূত পিয়ারিলাল মন্ডল এবং মনিমোহন মন্ডল তৈরি করেছিলেন ছোট রাসবাড়ি।মন্দিরটি নবরত্ন স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি।উঠোন এর চেহারা পুরোটাই দাবার ছকের ন্যায়। বড় রাস বাড়ি চত্তরটি ২টি মন্দির কমপ্লেক্স নিয়ে গঠিত।একটি হলো ১২টি শিব মন্দিরের একটি চত্বর এবং আর একটি হলো নবরত্ন স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি আটচালা মন্দির।যার নাম রাধনাথ মন্দির বা রাধকান্ত মন্দির।১৭৯৬ সালে বাওয়ালি জমিদার এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন।
মন্দিরের সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিশালাকৃতির স্তম্ভযুক্ত দালান চত্বর।কথিত আছে রানী রাসমণি দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরটি এই নবরত্ন স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আজকের টালিনালা এক নর্দমায় পরিণত হয়েছে।যা বহু ইতিহাসের সাক্ষী।কলকাতা পুরসভা থেকে কিছু বছর আগে এটিকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে গণ্য করলেও কোনো রকমের রক্ষনাবেক্ষন এখনও পর্যন্ত করা হয়নি।মন্দির প্রাঙ্গন গাছগাছালিতে ভরে গিয়েছে।
বড় রাসবাড়ি চত্বরে আজ ১২টি শিব মন্দিরের মধ্যে বেশ কয়েকটি মন্দিরের ভিতর মানুষ বসবাস করছে।শিব লিঙ্গ একটি মাত্র পরে রয়েছে।বাকিগুলি চুরির খাতায়।শিব লিঙ্গগুলি ছিল তৎকালীন তৈরি কষ্টি পাথরের।মন্দিরের সামনে দৈনন্দিন জীবনের রান্না খাওয়া কাপড়কাচা,বাসন ধোওয়া, কাপড় শুকাতে দেওয়া সবই চলছে।শুধুমাত্র রাধনাথ মন্দিরটি রক্ষনাবেক্ষন চোখে পড়লো।বাকি দুটি মন্দিরের জীর্ণ অবস্থা।












Click it and Unblock the Notifications