চন্দনযাত্রায় জগন্নাথদেব, বৈশাখের শুক্লপক্ষে কেন এমন আয়োজন, জানুন
মহাসমারোহে এখন পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের চন্দনযাত্রা। আর সেই উপলক্ষ্যে এখন ভক্তসমাগমে মেতে উঠেছে বাগবাজারের গৌড়ীয় মিশন। ফি বছরই এই সময়ে ২১ দিন ব্য়াপী এই চন্দনযাত্রা উৎসব চলে।
মহাসমারোহে এখন পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের চন্দনযাত্রা। আর সেই উপলক্ষ্যে এখন ভক্তসমাগমে মেতে উঠেছে বাগবাজারের গৌড়ীয় মিশন। ফি বছরই এই সময়ে ২১ দিন ব্য়াপী এই চন্দনযাত্রা উৎসব চলে।

কথিত আছে সত্যযুগে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব পরম ভক্ত প্রজাপালক বৈষ্ণবরাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে তাঁর অঙ্গে সুগন্ধী চন্দন দিয়ে লেপনের আদেশ দেন। ফি বছরই বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষে অক্ষয় তৃতীয়াতে এই চন্দন লেপনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তা চলে শুক্লা অষ্টমী তিথি পর্যন্ত। এই বছর ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এই চন্দনযাত্রা। শেষ হবে ৮ মে।

গৌড়ীয় মিশনেও এই উপলক্ষ্য়ে এই ক'দিন শ্রীশ্রীকৃষ্ণের চন্দনযাত্রা মহোৎসব প্রথা মেনেই উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধে ৬টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলছে অনুষ্ঠান। চন্দনলেপন, পুষ্পশৃঙ্গার, আবির্ভাবাদি তিথিপূজা, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত শ্রীমদভাগবত পাঠ, ভূবনমঙ্গল শ্রীহরি সংকীর্ত্তন মহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

একটা সময় এই চন্দনযাত্রা সম্পর্কে গৌড়ীয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ বলেছেন, 'জগতের বিচিত্র ভোগোপকরণগুলি যদি একশ্রেণির লোক বৃথা বিনিষ্ট হওয়ার জন্য কাকবিষ্ঠার মতো দূরে নিক্ষেপ করে, তাহলে এইরূপ ভোগসাধক দব্র্যগুলি বৃথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে আর এক শ্রেণির লোক নিশ্চই তা ভোগদ্বারা সার্থকতা মণ্ডিত করার ইচ্ছায় আহরণ করে নেবেন। সুতরাং ত্যাগীসম্প্রদায় পরোক্ষে ভোগীসম্প্রদায়ের ভোগেরই ইন্ধন যুগিয়ে তাঁদের প্রতি হিংসা করে থাকেন। আর নিজেরাও অবৈধ ও অস্বাভাবিক ত্যাগের আদর্শদ্বারা প্রয়োজনীয় বস্তুগুলিকে অযথা নষ্ট করার অনধিকারোচিত কাজের অপরাধে অপরাধী ভোগীকুলের দ্বারা প্রতিহিংসিত হন। '

এই চন্দনযাত্রায় আরও একটি কথা বহুল প্রচলিত যে গ্রীষ্মকালে শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গে চন্দন লেপন করলে অঙ্গ শীতল হয় এবং তিনি পরম সুখ লাভ করেন।












Click it and Unblock the Notifications