তিহাড় বন্দি কেষ্টতেই আস্থা তৃণমূল নেত্রীর! কাজল শেখকে ধমক দিয়ে বীরভূমের সংগঠনের দায়িত্ব ৩ নেতাকে দিলেন মমতা
তিহাড় জেলে বন্দি অনুব্রত মণ্ডল। কবে মুক্তি পাবেন কিংবা পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। সেই পরিস্থিতিতে জেলা সভাপতি হিসেবে কেষ্ট মণ্ডলেই আস্থা রাখনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় দলের সংগঠন দেখাশোনার জন্য নয় সদস্যের কোর কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কোর কমিটিকে সপ্তাহের একবার বৈঠকে বসতে হবে।

কেষ্টতেই আস্থা
সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজ্যে নেই অনুব্রত মণ্ডল। সেই পরিস্থিতি রণকৌশল ঠিক করতে এদিন কালীঘাটে বীরভূম জেলা তৃণমূলের নেতাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বৈঠকে জেলার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কেষ্ট মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে দলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠকের পরে তৃণমূল মুখপাত্র চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, অনুব্রত মণ্ডলকে সভাপতির পদ থেকে সরানো নিয়ে কোনও আলোচনাই করা হয়নি।

কোর কমিটির নেতার সংখ্যা বৃদ্ধি
কেষ্ট মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব ৫ জনের কোর কমিটির হাতে তুলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর কমিটির নেতার সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এবার থেকে নয় জনের কোর কমিটি বীরভূমে দলের সাংগঠনিক কাজ দেখাশোনা করবেন।

কাজল শেখকে ধমক
অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে ইদানিং বীরভূমে কাজল শেখকে তৃণমূলের সংগঠনে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছিল। যা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না অনুব্রত মণ্ডলের অনুগতরা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের বৈঠকে কাজল শেখকে বেশি কথা বলার জন্য ধমক দেন। বেশি কথা বললে, তাঁকে শোকজের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। জেলায় দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাজল শেখ বিরোধী বলে পরিচিত তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরীকে।

সাংগঠনিক দায়িত্বে জেলার বাইরের তিন নেতা
এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও বীরভূমের সাংগঠনিক বিষয়টি দেখাশোনা করবেন দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং মলয় ঘটক। এছাড়াো থাকবেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

সংগঠন তিনিই দেখবেন, বলেছিলেন মমতা
প্রসঙ্গত মাসখানেক আগে বীরভূমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ভয় দেখানো হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছিলেন, বীরভূমের মানুষ ভয় পাবেন না, তিনি নিজে বীরভূমের সংগঠন দেখবেন।
বেশ কিছুদিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দ্রনাথ সিনহা, বিকাশ রায় চৌধুরী, অভিজিত সিনহা এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে বীরভূমের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে জেলায় অনুব্রত মণ্ডল বিরোধী বলে পরিচিত কাজল শেখ, শতাব্দী রায় এবং অসিত মালের নাম যুক্ত করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications