TMC: ফের সম্মুখ সমরে দুই তৃণমূল সাংসদ! একে অপরকে নাম না করে কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রর, সরাসরি আক্রমণে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ফের লেগে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদের মধ্যে। ফের সম্মুখ সমরে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কল্যাণ মহুয়ার নাম না করে এক কটাক্ষে সরাসরি নাম নিয়ে বললেন, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে মহুয়া মৈত্রকে ঘৃণা করেন। ফলে দুই বিবদমান সাংসদের দ্বন্দ্বে দল কোন পদক্ষেপ করে সেটাই দেখার।
ঘটনা হল, কসবার ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রর মন্তব্যের জেরে দল অস্বস্তিতে পড়ে দূরত্ব বজায় রেখেছে। তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের মন্তব্যকে দল সমর্থন করে না। তার পরেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। গোলমাল বাঁধল মহুয়া মৈত্রর সোশ্যাল পোস্টে। তাতে ক্ষেপে লাল কল্যাণ।

মহুয়া মৈত্র কারও নাম উল্লেখ না করে কল্যাণ এবং মদন মিত্রের বক্তব্যের সমালোচনা করে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি এই দুই নেতাকে 'নারীবিদ্বেষী' বলেন। এর জবাবে কল্যাণ জানান, তিনি মহুয়াকে ঘৃণা করেন। উল্টে মহুয়াকে নারীবিদ্বেষী বলে তোপ দেগেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি সব নারীকে সম্মান করি, কিন্তু মহুয়া মৈত্রকে ঘৃণা করি। যাঁকে পার্লামেন্টের এথিক্স কমিটি বহিষ্কার করে, তাঁকে ঘৃণাই করি।' এখানেই না থেমে কল্যাণের আক্রমণ, 'দেড় মাসের হানিমুন শেষ করে দেশে ফিরেই কি ওঁর আমার পিছনে লাগা শুরু হল? আমি নারীবিদ্বেষী? আপনি এক মহিলার চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবন নষ্ট করে, তাঁকে কষ্ট দিয়ে তাঁর পুরুষকে বিয়ে করেছেন। আর আমি নারীবিদ্বেষী?'
কল্যাণের আরও অভিযোগ, মহুয়া নিজের কেন্দ্রে অন্য কোনও মহিলা নেত্রীকে ওপরে উঠতে দেন না। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তাঁকে কালীগঞ্জের উপনির্বাচনের প্রচারের জন্য যেতে বলেছিলেন। কিন্তু মহুয়া সেটাও মহুয়া আটকে দিয়েছেন।
কল্যাণ ও মহুয়ার সাপে-নেউলে সম্পর্ক বেশ কিছুদিনের। দুজনেই কখনও প্রকাশ্যে কখন পরোক্ষে একে অপরের নাম করে সমালোচনা করেছেন। কসবা কাণ্ডের প্রেক্ষিতে ফের একবার দলে নেতা-নেত্রীদের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠল। এখন দেখার দল কোন পদক্ষেপ করে।












Click it and Unblock the Notifications