কয়লা কাণ্ডে হাজিরা দিয়েছেন, মমতার বিরুদ্ধে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন! জানিয়েছেন 'সাহেবে'র কাছের 'কালীঘাটের কাকু'
মঙ্গলবার কালীঘাটের কাকুর পরিচিতি জানিয়েছিলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলবন্দি তাপস মণ্ডল। আর বুধবারেই সামনে কালীঘাটের কাকু সুজয় ভদ্র। তিনি সংবাদ মাধ্যমের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
এসএসসির নিয়োগে কালীঘাটের কাকু যুক্ত প্রথম বলেছিলেন কুন্তল ঘোষ। তাপস মণ্ডলও বলেছিলেন। তাঁরা দুজনেই এখন জেলে। তবে কালীঘাটের কাকুর নাম প্রকাশ্যে এসেছে। আর কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয় ভদ্র জানিয়েছেন, তিনি কুন্তল ঘোষকে চেনেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে।

কীভাবে হলেন কালীঘাটের কাকু
বেহালায় জন্ম, বেহালাতেই বাড়ি। বাড়ি আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী ক্ষেত্রে বেহালা পশ্চিমের ফকির পাড়ায়। কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয় ভদ্র জানিয়েছেন, কর্মসূত্রে তাঁকে নিউ আলিপুরে যেতে হলেও কালীঘাটে যান না। তাঁকে কুন্তল ঘোষ কাকু বলে ডাকত। অনেকেই তাঁকে কাকু বলে ডাকে। কিন্তু কীভাবে কালীঘাটের কাকু তিনি হলে গেলেন, তা তিনি বলতে পারবেন না। কুন্তল ঘোষের সঙ্গে একাধিকবার দেখা হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি কুন্তল ঘোষও বলতে পারবে না, তাঁর হাতে অনেক ক্ষমতা। কুন্তল ঘোষ যে নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত, তা জানতেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে নিয়োগ দুর্নীতিতে কালীঘাটের কাকু জড়িত সে কথা প্রথম সামনে এনেছিলেন গোপাল দলপতি। আর কুন্তল ঘোষ যাঁদের কাছ থেকে নিয়োগের জন্য টাকা নিয়েছিলেন, তাঁদেরকে বলতেন কালীঘাটের কাকুকে টাকা দিতে হবে। মঙ্গলবার কালীঘাটের কাকু যে সুজয় ভদ্র তা প্রথমবার বলেন হেফাজতে থাকা তাপস মণ্ডল।

কীভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হলেন
সুজয় ভদ্র জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮২ সাল থেকে কংগ্রেস করতেন। তারপর বর্তমানে তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী। এলাকার তৃণমূলের ছেলেদের সঙ্গেও এইভাবেই যোগাযোগ। নিজেই দাবি করেছেন গত ৪৬ বছর ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয় ভদ্র। তাঁর দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁরই এলাকার বিধায়ক। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মেয়ের চাকরির জন্য বলেছিলেন। কিন্তু তা আর হয়নি। সুজয় ভদ্র দাবি করেছেন, চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে তিনি নিজের মেয়েকে আগে দিতেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক
কয়লা পাচার মামলায় তাঁকে সিবিআই তলব করেছিল। ৯ ঘন্টা জেরা করা হয়েছিল তাঁকে। গত কয়েক বছরের আয়ব্যায়ের হিসেব জমা দিতে বলা হয়েছিল, তা তিনি দিয়েছিলেন। আবার যদি সিবিআই কিংবা ইডি যদি ডাকে ফের হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয় ভদ্র। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থায় কাজ করেন ২০০৯ সাল থেকে। ২০১১ সালে ভবানীপুর উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থীও হন তিনি। তাঁর সাহেব অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে ম্যাথু স্যামুয়েল এসেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় দেখা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁকে নিশানা করার পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয় ভদ্র।












Click it and Unblock the Notifications