পালিয়ে যাওয়ার লোক নই, সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পর জানিয়ে গেলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি তাঁর কল্যাণেই সামনে এসেছিল। মন্ত্রী-বিধায়ক থেকে শিক্ষা জগতের কর্তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন তিনিই। সেই নিয়োগ দুর্নীতির দুটি মামলা থেকে তাঁকে এদিনই সরিয়ে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। তারপর অকুতোভয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলে গেলেন, তিনি পালিয়ে যাওয়ার লোক নন।
সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সোজাসাপ্টা সাক্ষাৎকারের তর্জমার নথি প্রেরণের জন্য পাল্টা মামলায় নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলকে।

তিনি সেই মামলার নির্দেশে বলেছিলেন, রাত ১২টার মধ্যে সাক্ষাৎকারের তর্জমার নথি তাঁর এজলাসে পাঠাতে হবে। তাঁর এই নির্দেশের পর জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। শুক্রবার রাত ৮টায় সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টে গঠিত সেই বেঞ্চই হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে নথি চেয়ে নির্দেশ জারি করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সেই নির্দেশের উপর স্বতঃপ্রণোদিত স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদের জারির পর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এজলাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এজলাস ছেড়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তখন তিনি জানান, আমি পালিয়ে যাওয়ার লোক নই। তিনি পদত্যাগ করছেন না। লড়াইয়ে যখন নেমেছি, শেষপর্যন্ত লড়ব।
সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ মেনে চলতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট যুগ যুগ জিও। কোনো একজন বিচারপতিকে নিয়ে এত আলোচনা সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলা উত্থাপন করে এখন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে সর্বাধিক আলোচনা হচ্ছে।
এদিন দিনভর চর্চায় ছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পর এজলাস ছেড়ে যাওয়ার সময়ও আলোচনায় ছিলেন। তিনি পদত্যাগ করছেন না বলে আশ্বস্ত করে জানান পালিয়ে যাওয়ার লোক তিনি নন, তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মান্যতা দিচ্ছেন শুধু।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির বিষয়টি অন্য বিচারপতির এজলাসে পাঠানোর নির্দেশ জারি করে। দুটি মামলা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। সাক্ষাৎকারের তর্জমা শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়।
তারপর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ওই তর্জমা চেয়ে পাঠান। সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে একটি মামলার নির্দেশনামা পাঠিয়ে রাত ১২টার মধ্যে সাক্ষাৎকারের তর্জমার নথি প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications