‘সৎ রঞ্জন'-গ্রেফতারে হতাশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়! বললেন, কিছুই হবে না
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে একাধিক ব্যাক্তিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও সিবিআই তদন্তে খুশি নয় কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি নিম্ন আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে সিবিআইকে।
দফায় দফায় জেরা শেষে আজ বাগদার চন্দন মণ্ডল ওরফে 'সৎ রঞ্জন'-কে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। একই সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজনকেও এদিন গ্রেফতার করা হয়েছে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে। কিন্তু সিবিআইয়ের এহেন পদক্ষেপে মোটেই খুশি নন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে ইতিমধ্যে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এই সংক্রান্ত শুনানিতে বারবার সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

কিছুই হবে না বলে মন্তব্য ছুঁড়ে দেন বিচারপতি।
আর এর মধ্যে চন্দনের গ্রেফতারের খবর আসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। এক আইনজীবী এই সংক্রান্ত তথ্য দেন। তাতে উচ্ছ্বাস নয়, বরং হতাশাই এদিন ফুটে ওঠে বিচারপতির চোখেমুখে। বলেন, এখন রঞ্জনকে গ্রেফতার করে কিছুই হবে না। গত ৭-৮ মাস ধরে তো তদন্ত চলছে। কিন্তু কী হবে? কিছুই হবে না বলে মন্তব্য ছুঁড়ে দেন বিচারপতি। কিন্তু হঠাত কেন এমন হতাশা তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে সিবিআই এতদিন পরে সৎ রঞ্জনকে গ্রেফতার করাতে হতাশা তা কার্যত স্পষ্ট বলছেন আইনজীবীমহল।

হেফাজতে নিয়ে জেরা করার নির্দেশ
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই তদন্ত দেওয়ার পরেই গদার প্রাক্তন বিধায়ক উপেন বিশ্বাস প্রথম ফেসবুক পোস্টে বাগদার রঞ্জনের নাম সামনে নিয়ে আসেন। তিনি বাগদার রঞ্জন একটি পরিবর্তিত নাম বলে জানান তিনি। তিনি রাজ্যে চাকরি বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে এক সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, বস্তায় ভরে টাকা নিয়ে বড় গাড়িতে করে কলকাতায় টাকা দিয়ে আসত। এরপরেই এই মামলাতে তৃণমূল নেতাকে পার্টি করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, অবিলম্বে বাগদার রঞ্জনকে নিজেদের হাফজতে নিয়ে জেরা করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘ মাস কেটে গিয়েছে।
কিন্তু সেই নির্দেশ দেওয়ার দীর্ঘ মাস কেটে গিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলেছে। হাইকোর্টে মামলার শুনানিও এগিয়েছে। কিন্তু চন্দন মণ্ডল ওরফে 'সৎ রঞ্জন'-কে গ্রেফতার করা নিয়ে একটা গড়িমাসি দেখা গিয়েছে সিবিআইয়ের। আর সেটাই বিচারপতির অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হতাশার কারণ বলেও মনে করছেন আইনজীবীরা।

চন্দন মণ্ডলকে সমস্ত নথি নিয়ে আসতে বলা হয়
উল্লেখ্য, শুক্রবার চন্দন মণ্ডলকে সমস্ত নথি নিয়ে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেসের দফতরে তলব করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তদন্তে সবরকমের সহযোগিতা করবেন তিনি। এরপর এদিন নিজাম প্যালেসে জিজ্ঞাসাবাদে সময় বয়ানে অসঙ্গতি দেখে গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর অ্যাকাউন্টে শুধু রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। আবার সেই টাকা অন্য কোথাও বেরিয়ে গিয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরে নানা অসঙ্গতি লক্ষ করেন তদন্তকারীরা। এরপরই তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে বাগদার রঞ্জন ওরফে চন্দন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই।












Click it and Unblock the Notifications