অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির নির্দেশের পিছনেও দুর্নীতি! সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির
এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতির নতুন একটি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী এদিন থেকে তদন্ত শুরু করে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে। কার নির্দেশে
এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতির নতুন একটি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী এদিন থেকে তদন্ত শুরু করে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে। কার নির্দেশে অবৈধদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য আবেদন কমিশনের, সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছেন বিচারপতি।

আগেই অবস্থান বদল এসএসসির
অবৈধ ভাবে যারা চাকরি পেয়েছেন এবং যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এই শূন্যপদ তৈরির কথা জানিয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। এনিয়ে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে মামলার শুনানিও হচ্ছে। কমিশন আদালতে বলেছে, অনেকেই তিন-চার বছর ধরে চাকরি করছেন, তাঁদের পরিবার রয়েছে, তাদের কথা ভেবেই আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে। এব্যাপারে কমিশনের অবস্থান নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তারপরেই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে এসএসসি। সেই মামলাতেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এদিন কমিশনের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান কার নির্দেশে কিংবা পরামর্শে কমিশন একাজে সামিল হয়েছিল? এব্যাপারে কোনও লিখিত প্রমাণ কমিশনের তরফে আদালতে দাখিল করা যায়নি।

সিবিআই তদন্তের নির্দেশ
ক্ষুব্ধ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানতে চান, কমিশনকে সামনে রেখে কার নির্দেশে শূন্যপদে অবৈধদের নিয়োগ? কে এই আবেদন করেছিল, আবেদনের উৎসই বা কে? বিষয়টি কার মস্তিস্কপ্রসূত, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআইকে নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। বিষয়টিকে সংগঠিত অপরাধ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি। বিচারপতি বলেছেন যোগ্যরা রাস্তায় ঘুরছে আর অযোগ্যদের নিয়োগ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী-দালালকেও স্বাগত
বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছএন, কমিশনের নামে আবেদন করা হলেও, তা কমিশনের করা নয়। বিষয়টিকে বেনামি আবেদন বলে বিচারপতি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় শিক্ষাসচিবকে হাইকোর্টে হাজিরার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী যদি আদালতে আসতে চান, তাহলেও স্বাগত। আবার যদি কোনও দালাল আসতে চান, তাঁকেও স্বাগত জানানো হবে।

বিতর্ক ঠিক কোন জায়গায়
গত ১৯ মে রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছিল বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত ৬৮২১ টি শূন্যপদ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়চেছিল নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি, শারীরশিক্ষা-কর্মশিক্ষা ছাড়াও গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডির বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের জন্য এই পদ তৈরি করা হয়েছে। যদিও স্কুল সার্ভিস কমিশন আদালতে জানিয়েছিল, আদালতের নির্দেশে যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁদের পরিবারের কথা ভেবেই এই পদ তৈরি করা হয়েছে। এব্যাপারে শুনানিতে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেছিলেন, চাকরি হারাদের অন্য কোথাও চাকরির বন্দোবস্ত করা হোক। সরকার ও এসএসসির আলাদা অবস্থান উল্লেখ করে বিচারপতি বসু রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে তাদের অবস্থান ২৫ নভেম্বর, শুক্রবার আদালতে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরেই এসএসসির তরফে অতিরিক্ত শূন্যপদে নিয়োগের আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর বুধবার কার নির্দেশে অবৈধদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য আবেদন, তার তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন অপর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications