শাহজাহান-উদাহরণে মেডিক্যালে ভর্তি দুর্নীতিতে CBI বিচারপতি গাঙ্গুলির! কিছুক্ষণেই স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের
মেডিক্যালে ভর্তিতে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে এদিন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিত গাঙ্গুলি। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে। বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি গাঙ্গুলির নির্দেশের ওপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার ফের শুনানি হবে।
মেডিকেলে নিট পরীক্ষায় ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে ভর্তি কাণ্ডে সিঁদুরে মেঘ দেখা যাচ্ছিল। হলও তাই। ওই অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে সিবিআইকেই এদিন দায়িত্ব দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি যে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন সেই হুঁশিয়ারি এর আগেই এজলাসে বসে তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, আদালত মনে করে করলে স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেবে। এদিন সেই পথেই হাঁটেন বিচারপতি। যদিও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

এমবিবিএস পরীক্ষায় ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে আদালতে মামলা করেছিলেন ইতিশা সোরেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, 'তফসিলি উপজাতি না হওয়া সত্ত্বেও অনেক পড়ুয়া ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। সেই তালিকায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজেরও নাম রয়েছে।'
বুধবার এই মামলাতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি গাঙ্গুলি মামলাকারীর আইনজীবীকে বলেছেন, সিবিআইকে যেন এই মামলায় যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি রাজ্যের আপত্তি প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, 'এই মামলাটি চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে আবার যেতে পারে। তাই রাজ্যের কাছে তিনি আশা করব এখনও পর্যন্ত সিবিআই তদন্ত আটকাতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে তা তারা জানাবে।'
বিচারপতির এই নির্দেশের পরেই রাজ্যের তরফে বীব্র আপত্তি তোলা হয়। সেই সময় বিচারপতি রাজ্যের আইনজীবীকে থামিয়ে বলেন, শাহজাহানকে রাজ্যে পুলিশ কি গ্রেফতার করতে পেরেছে? বিচারপতি গাঙ্গুলি আরও বলেন, রাজ্যটা দিনে দিনে কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্তের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের ওপরে তাই আদালতের আস্থা নেই। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ভার তাই সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এই মামলার তদন্তভাব সিবিআই-এর হাতে যাওয়া আটকাতে রাজ্য সরকার এতটাই মরিয়া ছিল, যে সঙ্গে সঙ্গে সৌমেন সেনের ডিভিশন বে়ঞ্চে আপিল করে। বিচারপতি সেন সেই সময় বিচারপতি গাঙ্গুলির এদিনের সিবিআই তদন্তের নির্দেশের ওপরে অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ দেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে বৃহস্পতিবার।












Click it and Unblock the Notifications