এজলাসে এজি কিশোর দত্তের কাছে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কিন্তু কেন?
সোমবার হাইকোর্টের এজলাসে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি। কিন্তু কেন? তাঁর এজলাসে আর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির কোনও মামলা নেই। তাহলে কী কারণে তিনি ক্ষমা চাইলেন?
এদিন একটি মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। সেইসময় বিচারপতি এই ঘটনা ঘটান। রাজ্যের এজি কিশোর দত্তকে তিনি ডেকে পাঠান৷ এজি এজলাসে আসতে দুজনের মধ্যে কথোপকথন হয়। এজির কাছে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি৷

'বন্ধু কিশোরের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে', এমনই মন্তব্য করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু কেন এমন ঘটনা? মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির প্রসঙ্গে কাস্ট সার্টিফিকেট জাল করার অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
মঙ্গলবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "কয়েক দিন আগে আমি আপনাকে অনেক কিছু বলেছি। আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে চিনি। প্রায় ৩৭ বছর। আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আই অ্যাম ভেরি সরি।" তিনি আরও বলেন, "আমায় আমার বন্ধু কিশোরের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি রাগের মাথায় অনেক কিছু বলেছি। বারের সকলের জানা উচিত। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
এরপর রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, "আমিও, ওই দিন অনেক কিছু বলেছিলাম।" বিচারপতি প্রত্যুত্তরে বলেন, "আপনি,যা শুনেছেন তাই বলেছেন। তবে আমি যা বলেছিলাম রাগ করে।"
ওই মামলার শুনানির সময় বিচারপতির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিলেন এজি। বিচারপতির পালটা দাবি ছিল, কিশোর দত্ত 'পাদুকালেহন' করে দ্বিতীয়বার এজি হয়েছেন।
এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন, "আপনারা জানেন না, কিশোর আমার কত উপকার করেছে। এমনও হয়েছে, কিশোর আর আমার আর এক বন্ধু না থাকলে আমি মরে যেতাম।" তিনি ফের বলেন, ''কিশোর, আমি, জয়মাল্য আরও কয়েকজন আমরা এক সঙ্গে ঘুরে বেড়াতাম।"
দুজনের মধ্যে সম্পর্কে অবনমন হয়েছিল ওই মামলা চলাকালীন। সেই সম্পর্কের দূরত্ব এদিন কাটল। এমনই মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications