নবান্নে ফের যাবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা? কোন পথে চলবে আন্দোলন?
তৃতীয় রাত রাস্তায় কাটল জুনিয়র চিকিৎসকদের৷ স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আন্দোলন চলছে। প্রশ্ন উঠছে, আন্দোলন এবার কোন পথে হবে? সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও চেষ্টা কি করা হবে?
আরজি কর হাসপাতাল থেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল৷ ক্রমে সেই আন্দোলন রাজ্যের ২৬ টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ক্রমে সেই ভিড় বাড়ছে। কিন্তু সরকারের সঙ্গে কোনও সদর্থক আলোচনা কি হবে? সরকার কি আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া মেনে নেবে? সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

গতকাল আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল নবান্নে পৌঁছেছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়নি। বলা ভালো, বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছে সেই বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন সভাঘরে অপেক্ষা করেছেন। আন্দোলনকারীরা নবান্নের বাইরে বসেছিলেন। বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। এই কথায় অনড় রয়েছে সরকার। অন্য দিকে সরাসরি সম্প্রচারের দিকেই জোরালো দাবি তুলে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।
বৈঠক গতকাল ভেস্তে গিয়েছে। সেই বৈঠক আবার কী ভাবে হবে? তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, বিচার নয়, চেয়ারের দাবি চলছে। মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন তাই আলোচনার সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব নয়। যদিও আন্দোলনকারীরা এই কথা মানতে চাননি। পালটা তাঁদের দাবি, বিচারের জন্যই পথে নেমেছেন। এখানে চেয়ারের লড়াই নয়। তাঁদের মধ্যে কোনও ইগোর লড়াই কাজ করছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারের দাবি করতে তাঁরা নবান্নে যাননি।
গতকাল রাতে নবান্ন থেকে তাঁরা ফিরে গিয়েছেন। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে তৃতীয় রাত। সেখানেই আন্দোলনকারীরা কাটিয়েছেন। এবার পদক্ষেপ কী হবে? কোন দিকে এগোবে আন্দোলন? তাই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে আবার কি নবান্ন যাওয়া হবে? মুখ্যসচিবকে আলোচনার জন্য বার্তা পাঠাবেন আন্দোলনকারীরা?
স্বাস্থ্য ভবনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁদের। এছাড়াও জুনিয়র চিকিৎসকরা তাঁদের নিরাপত্তার দাবি তুলছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কি সেই সব বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব হবে? সরকারের সঙ্গে কতটা দূরত্ব তৈরি হল আন্দোলনকারীদের? সরকার কি এবার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? সেই প্রশ্ন উঠছে।
যদিও আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার ডাকলে তাঁরা যাবেন। তাঁরা অপেক্ষা করছেন মুখ্যমন্ত্রীর ডাকের। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে বলেই তাঁরা নবান্নে গিয়েছিলেন। আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications