SSC Scam : আরও ৮০০-র বেশি শিক্ষকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা! ডিভিশন বেঞ্চে বিচারপতি গাঙ্গুলির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ
নিয়োগে পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি। সাদা ওএমআর শিট জমা দিয়েছেন কেউ কেই। সেখানে ১ থেকে ৫৩ নম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার অভিযোগ। যা নিয়ে হাইকোর্টের নজরদারিতে তদন্ত।
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এসএসসির গ্রুপ ডির ১৯১১ জনের চাকরি বাতিল করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন তাঁরা ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে ওএমআর সিটে কারচুপির অভিযোগে ৮০০-র বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডিভিশন বেঞ্চে এসএসসির চাকরি হারানোরা
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুক্রবার নিয়োগ দুর্নীতিতে এসএসসির গ্রুপ ডির যাঁদের চাকরি বাতিল করেছিলেন, তাঁরা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, অবিলম্বে ১৯১১ জন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরির সুপাররিশ প্রত্যাহার করতে হবে। তারপরেই এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই ১৯১১ জনের চাকরির সুপারিশ প্রত্যাহার করে নেয়। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলার শুনানি। উল্লেখ করা যেতে পারে চাকরি হারানোদের হয়ে মামলায় সওয়াল করছেন প্রবীণ আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ। এছাড়াও রয়েছেন পার্থ দেববর্মণ এবং অনিন্দ্য লাহিড়ী।

সিঙ্গল বেঞ্চে ৮০৫ জনের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা
নবম-দশমে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকদের সার্ভার ও ওএমআর শিটের নম্বরে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ১ নম্বর থেকে কারও কারও ৫৩ নম্বর পর্যন্ত বেড়েছে। ২০১৬ সালে নবম-দশমে নিয়োগের যে পরীক্ষা হয়েছিল সেখানেই এই গরমিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার আগেই জানিয়েছিলেন, এইসব শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়োগ স্ক্যানারে রয়েছে। এসএসসি হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে জানায় ৮০৫ জনের ক্ষেত্রে গরমিল পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮০৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে কাদ করছেন। সোমবার থেকে এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেই পর্যায়ক্রমে এইসব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগের সুপারিশপত্র বাতিল করা হবে। এমনই খবর স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্রে।

আদালতে এসএসসির স্বীকারোক্তি
শুক্রবার আদালতে এসএসসির আইনজীবীই স্বীকার করে নিয়েছিলেন, ১৯১১ জনকে গ্রুপডিতে অন্যায়ভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওেমআর শিটে কারচুরি পরে চাকরির সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়। বৃহস্পতিবার এসএসসির আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, সব মিলিয়ে গ্রুপ ডির নিয়োগে ২৮১৯ জনের ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছিল।

পার্থ-সুবীরেশের সময়েই দুর্নীতি
হাইকোর্টের নজরদারিতে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চালাচ্ছে ইডি-সিবিআই। ইডি প্রথমে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। তারপরেই তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের একাধিক ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময় এসএসসির চেয়ারম্যান থেকে সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলি এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকেও।












Click it and Unblock the Notifications