রসগোল্লা নয়, কলকাতায় এলেই ঝলসানো মুরগি, এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের খাবার
রসগোল্লা নয়, কলকাতায় এলেই ঝলসানো মুরগি, এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের খাবার
শিশু দিবস মানেই জওহরলাল নেহরুর নাম উঠে আসে। রঙীন সাহেবি ধাঁচের এই ভদ্রলোক ছিলেন কেতাদুরস্ত প্রকৃতির। তাঁর খাওয়া দাওয়া, আচার আচরণ ও সাহেবিয়ানার জন্য নাকি প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে জনতার দাবীতে না হলেও বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী পদে পদাশীন হন। একমাত্র যুক্তি ছিল নাকি বৃটিশদের সঙ্গে বোঝাপড়া ও আলাপচারিতার জন্য আর কেউ উপযুক্ত নন।

চিকন রয়্যাল
এহেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কলকাতায় এলে তাঁর জন্য বিশেষ পদ তৈরি থাকবে না তা কি হয়? কলকাতা রাজভবনে জহরলাল নেহরু এলে তৈরি হত বিশেষ পদ, - "চিকেন রয়্যাল"।

পদটি কি?
প্রথমে দুটো হৃষ্টপুষ্ট মুরগী জবাই করা হত। মেসিনের একটি মুরগীকে কেটে কিমা করে যাবতীয় নুন-মশলা দিয়ে ফ্রাইপ্যানে ভাজা হয়। তারপর ভাজা কিমাটা সামান্য গরম জলে ডুবিয়ে দেখে নেওয়া হয় ঠিক ভাজা হয়েছে কিনা, - ভাজা কিমাটা জলে ভাসছে কিনা। ভাসলে ভাজা কিমাটা অনৃ আরেকটি ছাড়ানো মুরগীর পিছন দিয়ে পেটের ভেতরে পুরে সেলাই করে দেওয়া হত। পরে মাখন দিয়ে মুরগীটিকে ফ্রাইপ্যানে ভাজা হতো। যখন আস্ত মুরগীটির লোমকূপ দিয়ে মাখন গড়িয়ে পড়তে, তখন আস্ত মুরগীটিকে গরম গরম জহরলাল নেহরুর প্লেটে পরিবেশন করা হত। নেহেরুসাহেব কাঁটা-চামচ দিয়ে সাহেবি কায়দায় সেই "চিকেন রয়্যাল" খেতেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে
এক সদ্যোজাত গণতন্ত্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরু শিশুশিক্ষাকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিতেন। ছোটদের ভালোবাসার পাশাপাশি 'চাচা' নেহরু তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছেন তাঁর দেশের স্বার্থে। তাই দেশজুড়ে তিনি গড়ে তোলেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যায়তন। প্রযুক্তিবিদ্যার জন্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। ডাক্তারি শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সস। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট -ও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি অব ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালে।

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা
নেহরু পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার দ্বারা দেশের মধ্যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ভারী শিল্প স্থাপনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সাথে সাথে অনেক উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ আমলে শিক্ষিত ভারতবাসীর জন্য চাকরির সুযোগ প্রায় কিছুই ছিল না। নেহরু পরিচালিত কর্মকান্ড জেরে শিক্ষিত ভারতবাসীর জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় । ফলে একটা বন্ধ্যা অর্থনীতিতে কিছুটা গতি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শিক্ষিত ভারতবাসী যে বিদেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাঁর অনেকটাই কৃতিত্ব নেহরুর প্রাপ্য।
নেহরু নিজে অত্যন্ত যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান মনস্ক ছিলেন। তাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির মতো প্রতিষ্টান তৈরি করেছিলেন যেখানে বিভিন্ন রোগের ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয়। ইন্ডিয়ান ড্রাগ এন্ড ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি গঠন করেছিলেন যাতে গরিব মানুষ সস্তায় ওষুধ পেতে পারে।
স্বাধীন ভারতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সরকারী চাকরিতে দলিতদের জন্য সংরক্ষণ চালু করে সমাজের প্রান্তিক মানুষদের উন্নত করার চেষ্টা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications