হত-দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার সস্তার মাস্ক তৈরি করছে যাদবপুর
হত-দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার সস্তার মাস্ক তৈরি করছে যাদবপুর
ইতিমধ্যেই গোটা দেশ জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তারই মধ্যে তীব্র সংকট মাস্ক ও স্যনিটাইজারের। সরকারের তরফে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও শহরাঞ্চলের থেকে সবথেকে খারাপ অবস্থা গ্রাম ও মফঃস্বল গুলির।

নন-মেডিকেল মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে আমেরিকাতেও
করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের মাস্ক পড়ার বাধ্যতামূলক করতে দেখা যায় একাধিক দেশের প্রশাসনকে। পাশাপাশি বর্তমানে করোনার থাবায় বিধ্বস্ত মার্কিন মুলুক। নন-মেডিকেল মাস্কের বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পকেও।

সংকটের বাজারে এবার সস্তার মাস্ক তৈরি করছে যাদবপুর
এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে গোটা রাজ্যে মাস্কের সংকটের কথা ভেবে এগিয়ে আসতে দেখা গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, বর্তমান পড়ুয়া, অধ্যাপক ও গবেষকদের একাংশকে। সূত্রের খবর, বর্তমানে বাজারের চলতি ব্যাগ, পুরোনো গামছা, কাপড়ের টুকরো ইত্যাদি দিয়ে সস্তায় মাস্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। লকডাউনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব না হলেও পড়ুয়া, গবেষক ও শিক্ষকদের একটি অংশ এতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

গোটা কাজের তদারকির দায়িত্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক স্বর্ণেন্দু সেন
যাদবপুরের সেন্টার ফর অ্যাপ্রোপ্রিয়েট সোশ্যাল টেকনোলজির অধ্যাপক ও গবেষকেরাই এই উদ্যোগে মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আরও একাধিক বিভাগের তরফেও। সূত্রের খবর, মাস্ক তৈরির কাজের তদারকি করেছেন যাদবপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক স্বর্ণেন্দু সেন।

পলিপ্রোপাইলিনের সংমিশ্রনেই তৈরি হচ্ছে থ্রি লেয়ার মাস্ক
বাজারের ব্যাগে থাকা পলিপ্রোপাইলিনের সংমিশ্রনেই মূলত এই মাস্কের অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। পলিপ্রোপাইলিন সাধারণত জল বা ওই জাতীয় পদার্থ প্রতিরোধে বিশেষভাবে সাহায্য করে। মাস্কের বাইরে এবং একদম ভিতরের স্তরে এই পদার্থের একটি লেয়ারও থাকবে। এটি ছাড়াও তিনটি স্তরের এই মাস্কের মাঝখানে থাকবে এই সুতির কাপড়ের আচ্ছাদন।

বিলি করা হয়েছে স্যানিটাইজার, চলছে কমিউনিটি কিচেনও
এদিকে রাজ্যে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হতে না হতেই সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষের সহায়তায় নেমে পড়ে যাদবপুরের পড়ুয়াদের একটা অংশ। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিলির মাধ্যমে দক্ষিণ কলকাতার দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় তাদের। বর্তমানে প্রত্যহ কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে চলছে খাবার বিলির কাজও। এবার তাতে সামিল এই বিশেষ ধরণের সস্তার মাস্কও।

সরকারের সাহায্য চাইছে যাদবপুর
এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে যাদবপুরের ফর্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের গবেষক হিন্দোল মজুমদার জানান, " চেক রিপাবলিকের মতো জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে এই কাজ চলছে। পিছিয়ে ছিল ভারত। কিন্তু এই তীব্র সংকটের বাজারে সবার হাতে হাতে মাস্ক পৌঁছে দেওয়াই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই সরকারও এতে সাহায্য করুক। আমাদের লক্ষ্য প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক ভাবে বিনামূল্যে বা নূন্যতম ৫ টাকা দরে এই মাস্ক বিক্রি করা। যাতে প্রাথমিক ভাবে সমস্ত শ্রমিক শ্রেণির মানুষ বা স্বাস্থ্য-কর্মীদের হাতে এটা তুলে দেওয়া যায়। "












Click it and Unblock the Notifications