মানুষের ভালোবাসা-আবেগকে কখন বিক্রি করিনি, জেল থেকে বেরিয়েই গর্জে উঠলেন নওশাদ
নওশাদ সিদ্দিকীকে নিয়ে আপ্লুত আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। মিথ্যা দিয়ে ভাইজানকে আটকে রাখতে পারেনি ওরা।
৪০ দিন পর বৃহস্পতিবার জামিন মঞ্জুর হলেও ছাড়া পাননি ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। জামিন পাওয়ার পরও তাঁকে দুদিন জেলে থাকতে হল। শনিবার জেল থেকে বেরিয়েই তিনি গর্জে উঠলেন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, মানুষের ভালবাসার আবেগকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করিনি।

ফুরফুরা শরিফে যাবার আগে হাওড়ার গড়ফায় সংবর্ধনা
ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি ৪২ দিন পর প্রেসিডেন্সি জেল থেকে মুক্তি পান শনিবার। তাঁকে আইএসএফের কর্মী-সমর্থকরা এদিন শুভেচ্ছা জানান। প্রেসিডেন্সি জেল থেকে বেরিয়ে শনিবার ফুরফুরা শরিফে যাবার আগে হাওড়ার সাঁতরাগাছির কাছে গড়ফায় কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা নওশাদ সিদ্দিকীকে সম্বর্ধনা দেন।

৪২ দিন জেলে কাটানোর পর মুক্তি নওশাদ সিদ্দিকীর
শনিবার সকাল থেকেই হাওড়ার গড়ফা মোড়ে ছিল সাজো সাজো রব। ৪২ দিন জেলে কাটানোর পর মুক্তি পাওয়া নওশাদ সিদ্দিকীর গাড়ি এখান দিয়েই যাব ফুরফুরায়। গড়ফায় তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই কর্মী-সমর্থকরা ভাইজান বলে উল্লাসে ফেটে পড়েন। তাঁকে মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান। তাঁরা জানান, ভাইজান এতদিন পর ছাড়া পেয়েছেন, আমরা খুব খুশি।

হুডখোলা জিপে নওশাদ, পুষ্পবৃষ্টি করলেন কর্মীরা
নওশাদ সিদ্দিকীনে নিয়ে আপ্লুত আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। মিথ্যা দিয়ে ভাইজানকে আটকে রাখতে পারেনি ওরা। এদিন নওশাদ সিদ্দিকীর উপর পুষ্পবৃষ্টি করেন কর্মীরা। হুড-খোলা গাড়িতে ছিলেন নওশাদ। তিনি বলেন, "এত মানুষ আমাকে ভালবাসে। তার জন্য ধন্যবাদ। এদের আবেগকে আমি সম্মান করি।"

আবেগকে আমি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে পারি না
তিনি বলেন, "এই আবেগকে আমি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে পারি না। আমার রাজনৈতিক জীবনে অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক, অসংসদীয়, অনৈতিক একটাও শব্দ আমি কখনো বলিনি। আমি সবসময় গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করি। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হবার কথা বলি।"

জুম্মাবারে জেল থেকে মুক্তি না মিললেও, শনিবার সকালেই মুক্ত
আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা আশা করেছিলেন, তাঁদের নেতাকে শুক্রবার নিশ্চিতভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে। নওশাদ সিদ্দিকীকে জেল থেকে মুক্তির পর রাজকীয় সংবর্ধনা জানাবেন তাঁরা। কিন্তু জুম্মাবারে জেল থেকে তাঁর মুক্তি না মিললেও, শনিবার সকালেই তিনি ছাড়া পেলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না আসায় শুক্রবার তাঁকে ছাড়তে পারেনি জেল কর্তৃপক্ষ।

আইনি জটিলতার কারণে জেল থেকে ছাড়া পেতে বিলম্ব
জেল সুপার দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, আইনি জটিলতার কারণে আদালত থেকে কোনোরকম কাগজপত্র এসে পৌঁছয়নি শুক্রবার। কাগজপত্র না পাওয়ায় নওশাদ সিদ্দিকীকে শুক্রবার জেলে থেকে ছাড়তে পারেননি তাঁরা, জেলের বেল পড়ে যাওয়ার পর লক আপ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও যদি কাগজ আসে, তাহলে লকআপ খোলার পরেই অর্থাৎ শনিবার সকালেই তাঁকে ছাড়া হবে জেল থেকে, জানিয়েছিলেন জেল সুপার। সেইমতোই শনিবার তাকে মুক্ত করে দেওয়া হল।












Click it and Unblock the Notifications