যাদবপুরে সমাবর্তন শেষে আনন্দে কেঁদে ফেললেন অস্থায়ী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ, রাজ্য-রাজভবন দ্বন্ধ
বহু বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ হল এবারের যাদবপুরের সমাবর্তন অনুষ্ঠান। অস্থায়ী উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক ছিল। আচার্য নিজে এবার উপস্থিত ছিলেন না অনুষ্ঠানে। রাজ্যের সঙ্গে রাজভবনের আরও একবার সংঘাত তৈরি হল। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য তিনি কাজ করতে পেরেছেন। অনুষ্ঠানে পড়ুয়ারা সার্টিফিকেট পেয়েছেন। উপাচার্য হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল। সেই কাজ তিনি করলেন। এবার তিনি কয়েকদিন ছুটি নেবেন। দীর্ঘদিন ধরে টানা কাজ করছেন অস্থায়ী উপাচার্য। সকাল দশটা থেকে রাত দশটা প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করেছেন তিনি।

এবার ছুটি নেবেন তিনি। রাজ্যপাল তথা আচার্য অস্থায়ী পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বুদ্ধদেব সাউকে। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানকেও রাজ্যপাল মান্যতা দেননি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে। সহ উপাচার্য ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেবেন। সেই মতোই সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। মঞ্চে বসে থাকেন অস্থায়ী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পৌরহিত্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্নেহমঞ্জু বসু।
অস্থায়ী উপাচার্যের পাশে দাঁড়িয়েছিল রাজ্য শিক্ষা দফতর। রবিবারের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে রাজ্য শিক্ষা দফতর ছাড়পত্র দেয়। অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে বুদ্ধদেব সাউকেও থাকতে বলা হয়। সেই কারণেই তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। আর এখানেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। আচার্য হিসেবে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস উপস্থিত ছিলেন না অনুষ্ঠানে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষের পরে কেঁদে ফেলেন বুদ্ধদেব সাউ। এই কান্না আনন্দের। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করছেন। চার মাস ধরে তিনি প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। ছাত্রছাত্রীরা শংসাপত্র হাতে পেয়েছেন। তাই তিনি খুশি। তবে তিনি যে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তে অপমানিত হয়েছেন, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন।
রাজভবন থেকে এরপর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? তাই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজ্যপালের তরফ থেকে কোনও বক্তব্য রাখা হয়নি। রাজ্য বিজেপি রাজ্যপালের পক্ষেই দাঁড়িয়েছে। রাজ্য সরকার অনৈতিক কাজ করছে। সে কথা দাবি করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। এই অস্থায়ী উপাচার্যকেই প্রথমে রাজ্য শিক্ষা দফতর পছন্দ করেনি। সেকথাও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। র্যাগিংয়ে মৃত্যু হওয়ার ছাত্রের ঘটনায় তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে? দোষীদের কেন এখনও শাস্তি দেওয়া হল না? সেই নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিযুক্ত করতে হবে। এই দাবি ওঠে।












Click it and Unblock the Notifications