আরজি করে চিকিৎসক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি, মাঝরাতে গ্রেফতার এক

আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মহিলা ট্রেনি চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত বড় অগ্রগতি। একদিকে ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যেমন গলা টিপে খুন ও ধর্ষণের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, অন্যদিকে মাঝরাতে এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাত তিনটে থেকে ভোর ছটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে।

লালবাজার সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে আরজি করে ডিউটিতে ছিলেন ২৫ জন। শুক্রবারের ওই ঘটনার পরে সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান মহিলা চিকিৎসকের কোনও পরিচিতই আততায়ী। এদিকে এদিন সকালেও হাসপাতালে এসে ফিরছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। জুনিয়র চিকিৎসকরা অপরাধীকে ধরতে পুলিশকে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়েছেন।

rg kar

আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের খুনের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের তরফে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম অর্থাৎ সিট গঠন করা হয়েছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন জয়েন্ট সিপি ক্রাইম মুরলীধর শর্মা। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত খুনের মামলা করা হয়েছে। ওই ঘটনার সময় কে বা কারা ঘরে বা আশপাশে ছিল তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি আরজি কর হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী। তিনি সরাসরি হাসপাতালে কর্মী নন।তাঁর নাম সঞ্জয় রায় বলে জানা গিয়েছে। অন্য একটি সূত্র বলছে, তিনি হাসপাতালে কেউ না হলেও, সেখানে অবাধ যাতায়াত ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ডিউটি ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।

এদিকে ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে গলা টিপে খুন ও পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে শ্বাসরোধ করা হয়। মৃত মহিলা চিকিৎসকের ঠোঁটে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর গলার হাড় ছিল ভাঙা। চাদরে রক্তের দাগ মিলেছে।

লালবাজার সূত্রে খবর মহিলা চিকিৎসককে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল চুল। গোপনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়েছে। রক্তপাত হয়েছে দুই পা থেকেই। গোড়ালিতে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। তাঁর অনামিকাতেও ছিল ক্ষতের চিহ্ন। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে দেহটি উদ্ধারের সময় তা ছিল বিবস্ত্র, ঈর্ধাঙ্গে কোনও পোশাক ছিল না। নিম্নাঙ্গের পোশাক ছিল দূরে।

শুক্রবার রাতে ময়নাতদন্তের পর দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় বাম ও বিজেপির নেতারা তাতে বাধা দেন। যার জেরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। তার মধ্যে পুলিশ দেহ সরিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকের অভিযোগ করেন মেয়ের দেহ কোথা নিয়ে যাওয়া হল, তা তাঁরা জানেন না।

এদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, গোটা ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে সরকার। তিনি এর বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে পথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+