সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল ভাবনায়, ঠাকুরপুকুর ক্লাবের পুজোয় এবার শিশুমন
বাঙালির ছোটবেলার একটা অংশ জুড়ে থাকে আবোল তাবোল, পাগলা দাশু, হিজিবিজিবিজরা, রামগরুরের ছানারা। বয়স বাড়লেও সেই কবিতা, লেখা মনে থেকেই যায়। আর স্রষ্টা সুকুমার রায় তো মনে রেখে দেওয়ারই মানুষ।
সুকুমার রায়ের অনন্য সৃষ্টি আবোল তাবোলের এবার একশো বছর। আবোল তাবোল মানেই এক মন ভালো করা বিষয়। স্বপন দোলা নাচিয়ে যাওয়ার নির্মল আনন্দ। সেই ভাবনাকেই এবার পুজো মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হল। দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্লাব এবারের পুজোয় এই ভাবনাকে পাথেয় করেছে।

ঠাকুরপুকুর ক্লাবের এবারের পুজো ৭৪ বছরে পড়ল। এবারের দুর্গাপুজোর ভাবনা, থিমে উঠে এসেছেন সুকুমার রায়ের সৃষ্টি। মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমা, সব কিছুতেই এক অন্য ভাবনা তৈরি করা হয়েছে। শিশুদের কথা মাথায় রেখেই এই থিমের আয়োজন। এমনটাই বলছেন পুজোর উদ্যোক্তারা।
এখনকার শিশুদের জীবনের আনন্দ অনেকটাই কমে গিয়েছে। পড়াশোনার চাপ অনেক বেশি৷ তার উপর নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে দাদু, ঠাকুমার জায়গাও হয় না অনেক পরিবারে। ফলে শিশুমন যেন চার দেওয়ালে বন্দি হয়ে থাকে৷ শিশু মস্তিষ্ক যেন আটকা পড়ে যায়।
সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল যেন খোলা হাওয়া। আজকের শিশুদের নতুন করে আবোল তাবোলকে চেনাতে হয়। পাশাপাশি বড়রাও এই মণ্ডপে এলে ফিরে যেতে পারেন সেই খুঁড়োর কল, কাতুকুতু বুড়োর স্মৃতিতে।
মণ্ডপের প্রতিটি অংশেই তেমনই ভাবনা রাখা হয়েছে। বলা ভালো, ছোটদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে রাখাটাই লক্ষ্য। বাঁশ, কাঠের অংশ তো আছেই। এছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন রকম কাগজের কোলাজ। মণ্ডপের ভিতরে আবোল তাবোলের কোলাজ নজর কাড়বেই৷

প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রেও এই ভাবনা কাজ করেছে। সাবেকি ঘরানার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম এবারের এই প্রতিমা। ঠাকুরপুকুর ক্লাবের প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে শিল্পী সন্দীপ সাহা। তারই ভাবনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবোল তাবোলকে। প্রতিমার সাজ ও অলঙ্কারেও আছে অভিনবত্ব। প্রতিমার রঙও চোখ টানবে।
তৃতীয়ার সন্ধ্যায় এই পুজোর উদ্বোধন করেন কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এছাড়াও মালা রায় এসেছিলেন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত হয়। দর্শকদের জন্য মণ্ডপ ও প্রতিমা খুলে দেওয়া হয়েছে।
ছোটবেলার আবোল তাবোলে ফিরে যেতে হলে আপনাকে যেতেই হবে ঠাকুরপুকুর ক্লাবের এই পুজোয়।












Click it and Unblock the Notifications