শহর জুড়ে বিপজ্জনক বাড়ির মালিকদের চরম সতর্কবার্তা কলকাতা পৌরসভার

গত মাসেই মেট্রোরেলের কাজ চলাকালীন হটাৎ করে একের পর বাড়ি ভেঙে পড়ার পরেই শহরের বিপজ্জনক বাড়ি গুলির ভবিষ্যত নিয়ে কলকাতা পুরসভাক বিশেষ তত্পড়তা নজরে পড়েছে।

গত মাসেই মেট্রোরেলের কাজ চলাকালীন হটাৎ করে একের পর বাড়ি ভেঙে পড়ার পরেই শহরের বিপজ্জনক বাড়ি গুলির ভবিষ্যত নিয়ে কলকাতা পুরসভাক বিশেষ তত্পড়তা নজরে পড়েছে। তাই শহরের এই বিপজ্জনক বাড়িগুলির বিষয়ে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার। পুরসভার নির্মান বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে শহরের বিপজ্জনক বাড়ি গুলির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে দ্রুত মেরামত বা বিনষ্ট করা না হলে ওই বাড়িগুলির মালিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠিন পদক্ষেপ। পাশাপাশি ওই বাড়িগুলির আবাসিকদের সঠিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করতে পারলে, সেই বাড়ির মালিকদের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে।

শহর জুড়ে বিপজ্জনক বাড়ির মালিকদের চরম সতর্কবার্তা কলকাতা পৌরসভার


এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরাদ হাকিম বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী বিপজ্জনক বাড়ি ধসের ফলে যদি কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তাহলে ওই বাড়ির মালিক বা দখলদারের ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাছাড়া বাড়ি ভেঙে যদি কোনও ব্যক্তি আহত হন, সেক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে ওই বাড়ির বর্তমান মালিককে।

পাশাপাশি, পৌরসভা সূত্রে খবর এই জরাজীর্ণ ও অতি বিপজ্জনক বাড়ি গুলিকে সম্পূর্ণ ভাবে বিনষ্ট করতে না পারলে ১ লক্ষ টাকার জরিমানাও করা হবে ওই বাড়ির মালিককে। ইতিমধ্যে পুরসভার উদ্যোগেই বিপজ্জনক বাড়ি গুলির চিহ্নিতকরণের কাজও শেষ হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও ওই সমস্ত বাড়ির মালিক বা দখলদাররা পৌরসভার কোনও নির্দেশেই কর্ণপাত করছেনা বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়। এবার তাদেরকে বাগে আনতেই কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা। বিপজ্জনক বাড়িগুলির ভেঙে পড়ে অংশের সঠিকভাবে মেরামতি করে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে না পারলে কলকাতা পুরসভা ওই বাড়ির মালিক অথবা দখলদারের কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করবে বলে জানিয়েছে।

কলকাতা পৌরসভার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরজুড়ে বর্তমানে এই ধরণের বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা ২৫০০ টি, যার মধ্যে ৩০০টি বাড়িকে ইতিমধ্যেই অতি বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে পৌরসভা। তবে অধিকাংশ বাড়ি থেকেই নির্দিষ্ট কর আদায় করতে ব্যর্থ হন পুরসভার আধিকারিকেরা। কারণ হিসাবে তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক বাড়ির গুলির বর্তমান মালিকে সহজে চিহ্নিতকরণ করা সম্ভব হয়না।

অন্যদিকে গতবছর মধ্য কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের কাছে একটি বিপজ্জনক বাড়ি ধসে পড়ায় তা পরিষ্কার করতে প্রায় তিনমাস সময় লেগেছিলো কলকাতা পুরসভার। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয় মধ্য কলকাতার বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে। তিনমাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকে ক্রিক রো।

এদিকে উত্তর কলকাতার বাগবাজারে পশুপতি বসুর বাড়িটি দীর্ঘদিন থেকেই অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই বাড়িতে একসময় রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দের মতো ব্যক্তিদের পদচিহ্ন পড়তে দেখা যেত। কিন্তু ২০১৭ সালে ওই ঐতিহ্যশালী বাড়িটির উপর অন্য একটি বাড়ি ভেঙে পড়ায় প্রায় ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে কলকাতা পুরসভা ওই বাড়ির মালিক ও দখলদারীদের তলব করে আইনি নোটিসও দেয়। যদিও প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে তারপরও বাড়ির মেরামত ও পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার আবাসন আইনের ৪০৪ ধারা অনুযায়ী, কলকাতা পৌর কমিশনার তাঁর বিশেষ ক্ষমতাবলে ওই সমস্ত বিপজ্জনক বাড়ি গুলি খালি করতে পারেন। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পৌরসভা তার এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিলোত্তমার অনেক বিপজ্জনক বাড়িই খালি করেছে। অন্যদিকে এই বিষয়ে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বিধানসভায় কলকাতা পুরসভার সংশোধনী বিলটিও পাস হয়। বিলটিতে বলা হয়, এরপর থেকে বিপজ্জনক এবং জরাজীর্ণ বাড়ির মালিকরা ভাড়াটেদের পুনর্বাসন প্যাকেজ সহ সংস্কারের জন্য কলকাতা পৌরসভায় আবেদন করতে পারবেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+