মাথার ওপরে নিম্নচাপ, পুজোর আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ মৃৎশিল্পীদের
মা আসার আর দিন কয়েকের অপেক্ষা, এখন থেকেই দুর্গাপুজোর দিন গোনা শুরু করে দিয়েছে বাঙালি। পুজো কমিটি গুলোর বায়না দেওয়ার পালা শেষ।
মা আসার আর দিন কয়েকের অপেক্ষা, এখন থেকেই দুর্গাপুজোর দিন গোনা শুরু করে দিয়েছে বাঙালি। পুজো কমিটি গুলোর বায়না দেওয়ার পালা শেষ। শেষ হয়ে গিয়েছে দরদামের পালাও। এখন শিল্পীদের কাছে একটাই চ্যালেঞ্জ, নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দিতে হবে।

কিন্তু গত দু'-তিনদিন ধরে আকাশের মুখ ভার। মাঝে মধ্যে মেঘ কালো করে হচ্ছে বৃষ্টিও, আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পরেছে কুমোরটুলি পাড়ার মৃৎশিল্পীদের। গত দু'-তিনদিনের বৃষ্টিতে ত্রিপলে মুখ ঢেকেছে কুমোরটুলি। প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় থমকেই রয়েছে কুমোরটুলি মৃৎশিল্পীপাড়ায়। শিল্পী-কারিগররা এখন তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে। কালো মেঘ সরিয়ে কবে উঠবে ঝলমলিয়ে রোদ সেই দিকেই তাকিয়ে তারা।
এবছর পুজো অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই। তবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কাগজে-কলমে বর্ষার স্থায়িত্ব থাকায় চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। জুন-জুলাই মাসে সেভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় আশঙ্কা ছিল, পরের দিকে বৃষ্টি হবে। গত দু'-তিনদিনের বৃষ্টিতে সেই পূর্বাভাস ই মিলেছে। ফলে শিল্পীদের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছে। গত দু'-তিনদিনের টানা বৃষ্টি কাজেও বিরতি টেনে দিয়েছে। ফলে ট্রিপলে মুখ ঢেকেছে কুমোরটুলি পাড়ার। বৃষ্টির হাত থেকে কাঁচামাটির প্রতিমা বাঁচাতে যতক্ষণ না পর্যন্ত চকচকে রোদ্দুর উঠছে, এভাবেই রাখতে হবে এবং সেই কারণে তেমন কোনও কাজও করা যাবে না, বলছেন তাঁরা।
গোটা পাড়ার শিল্পীরা সবাই কার্যত হাত-পা গুটিয়ে বসে রয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিমার মুখ বা আঙুল তৈরির কাজ করছেন এক কোণে বসে। তবে মূল প্রতিমায় মাটি লেপার কাজ বা শুকানোর পর সাদা মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ একেবারে বন্ধ। শিল্পীদের সম্পাদক বাবু জানান, বর্ষাকালে তো বৃষ্টি হবেই। এটার সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু এবার তো একেবারেই হচ্ছিল না, আর হল যখন লাগাতার হতে থাকল।
ফলে কাজকর্ম বন্ধ রাখা ছাড়া আমাদের অন্য কোনও উপায় নেই। আরেক শিল্পী সমীর পাল বলেন, যত দিন এগবে, আমাদের চাপটাও তো বাড়বে। কিন্তু বর্ষার জন্য কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। আশা করছি, কাল-পরশুর মধ্যে এই আবহাওয়া কেটে যাবে।












Click it and Unblock the Notifications