কারও ক্ষতি করিনি, সত্য লুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, আরজি কর নিয়ে প্রতিবাদ সভায় মমতা বললেন টাচ মি ইফ ইউ ক্যান
মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আরজি করে চিকিৎসকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে পথে নামলেন। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি জানালেন। বিক্ষোভের মঞ্চ থেকেই তিনি সিপিআইএম এবং বিজেপিকে নিশানা করেন।
যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলছেন সরকারি দলের বিরুদ্ধে চিকিৎসক হত্যার প্রমাণ লোপাটের, সেই অভিযোগ এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন সিপিআইএম ও বিজেপির বিরুদ্ধে।

- সিবিআইকে দিলেন সময়সীমা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সিবিআইকে আরজি কর ঘটনার তদন্তের জন্য রবিবার পর্যন্ত সময়সীমা দেন। কারণ কলকাতা পুলিশকে তিনি এই সময়সীমা দিয়েছিলেন। তদন্ত অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। মঞ্চে তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে তিনি স্লোগান দেন নাটক নয়, ফাঁসি চাই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আরজি করের ঘটনা নিয়ে প্রথম দিন থেকেই তিনি পদক্ষেপ করেছেন। রাজ্য পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সব দাবি মানা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে।
- তদন্তের জন্য সময় দিলেন না
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ওই চিকিৎসকের বাবা-মাকে বলেছিলেন, সরকার অভিযুক্তকে শাস্তি দেবে। রবিবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। না হলে সিবিআইকে দেওয়া হবে। সিপিএম, বিজেপি এবং আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন। তিনি বলেন, পরিবারকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।
- সোশ্যাল মিডিয়ার সব খবর সত্যি নয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সব খবর সত্যি নয়। সাইবার ক্রাইম বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেকে এইভাবেই পয়সা কামাচ্ছে। কাউকে স্পনসর করছে বিজেপি, কাউকে সিপিআইএম, অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতি করার জন্য টাকা নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এব্যাপারে তিনি প্রযুক্তি তথা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দিকেও আঙুল তোলেন।
- সিপিএম-বিজেপিকে কটাক্ষ
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সিপিআইএম ও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বানতলা থেকে ধানতলার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছিল বামফ্রন্ট সরকারের আমলে। অন্যদিকে বিজেপির শাসনে হাথরাস-উন্নাউয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ১৪ অগাস্ট রাতের কলকাতার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কেন্দ্রে রিপোর্ট চাওয়ার ঘটনারও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি পারেন তো গায়ে হাত দিয়ে দেখুন।
বৃহস্পতিবারের মতো এদিনও তিনি ফের একবার বুধবার রাতে আরজি করে হামলার ঘটনার জন্য বিজেপি ও সিপিআইএমকে দায়ী করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এদিন উঠে এসেছে কামদুনির ঘটনা এবং বাম আমলে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসির প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার কামদুনির ঘটনায় দুইজনকে ফাঁসির সওয়াল করেছে। কিন্তু ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসির ঘটনায় আদৌ কি আসল লোককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল?
কেন খবর নেওয়া হল না?
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ওই চিকিৎসক রাত একটায় অন্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। তারপর তিনটে থেকে পাঁচটার মধ্যে তাঁর হত্যাকান্ড ঘটে। তারপর নটা পর্যন্ত কেন তাঁর কোনও খোঁজ নেওয়া হবে না। তিনি তো ডিউটিতে ছিলেন!












Click it and Unblock the Notifications