Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভয়ানক জাপানি বোমাকেও হারিয়ে দিয়েছিল কলকাতার এই শতবর্ষ প্রাচীন জলাধার

এই ট্যাঙ্কটি এতটাই মজবুত যে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় জাপান যখন বোমা ফেলেছিলো তখনও ধ্বংস হয়নি। শুধু মাত্র ৯ টা ছিদ্র হয়েছিল। প্রচুর বড় বড় ভূমিকম্প এসেছে কিন্তু কোনো ক্ষতিই হয়নি 'টালা ট্যাঙ্ক'-এর। এই বিশালাকার ট্যাঙ্ককে ক্ষতি করতে পারলে কলকাতাকে কব্জা করা যাবে এই চিন্তা নিয়ে ১৯৬২, ১৯৭১ এর যুদ্ধে চীন ও পাকিস্তানের কাছে সব থেকে বড় টার্গেট পয়েন্ট ছিলো 'টালা ট্যাঙ্ক'। কারণ পানীয় জল ব্যতীত মানুষের জীবন অচল। কিন্তু এই সমস্ত বাধা এবং প্রতিকূলতা কে দূরে ঠেলে আজও আমাদের বাঙালির তথা বিশ্ব-এর গর্ব হয়ে রয়েগেছে এই 'টালা ট্যাঙ্ক'। জলের মাধ্যমে জীবন দান করে চলেছে কলকাতার প্রায় প্রতিটি ঘরে।

ভয়ানক জাপানি বোমাকেও হারিয়ে দিয়েছিল কলকাতার এই শতবর্ষ প্রাচীন জলাধার

শুধু ভারতবর্ষ নয়, পৃথিবীর বৃহত্তম ওভারহেড রিজার্ভার হলো কলকাতার 'টালা ট্যাঙ্ক'। ঐতিহাসিক 'টাইটানিক' জাহাজ যে লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছিল 'টালা ট্যাঙ্ক' তৈরি হতেও সেই রকম লোহা ব্যবহৃত হয়েছিল। এই 'টালা ট্যাঙ্ক'-এর জন্মটা ঠিক কি ভাবে হলো চলুন জেনে নেওয়া যাক।১৭১৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মোঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার এর কাছ থেকে ৩৮ টি গ্রাম অধিগ্রহণ করেছিল। যার মধ্যে ৩৩ টি ছিল বর্তমান কলকাতায়। আস্তে আস্তে কলকাতা যখন শহরে পরিবর্তিত হতে থাকলো এবং উন্নত থেকে উন্নততর হতে থাকলো তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রথম এবং প্রাথমিক কাজ হয়ে উঠলো নাগরিকদের সুস্থ পানীয় জল সরবরাহ করা। কারণ যেকোনো সুস্থ বসতি এবং জনজীবন গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জলের গুরুত্ব সবার আগে। সেইসময় হেদুয়া, ভবানীপুর এবং ওয়েলিংটন এ পুকুর কেটে জল সরবরাহ শুরু করা হয়। এরপর শহর বড় হতে লাগলো, বড় হতে লাগলো জনজীবন, জনবসতি, তাই নাগরিক দের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থকর জল সরবরাহ করার জন্য মিস্টার ডেভেরাল ১৯০১ সালে একটি ট্যাঙ্ক নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং কলকাতা কর্পোরেশন দ্বারা এই প্রস্তাব গৃহীত হয় ১৯০২ সালে। ১৯০৩ সালে ডব্লিউ বি ম্যাককাবে এই বর্তমান 'টালা ট্যাঙ্ক'-এর সামান্য কিছু পরিবর্তন করেন আর তাতে তখনকার দিনে টাকার পরিমান দাঁড়ায় ৬৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৭৪ টাকা। এখন সমস্যা হলো এত বড় ট্যাঙ্ক তৈরি হবে কোথায়? আজ যেখানে 'টালা ট্যাঙ্ক' দাঁড়িয়ে আছে সেখানে এক কালে প্রচুর পুকুর ছিল, এই পুকুর ভরাট করে তৈরি করা হয়েছিল এই টাঙ্কটি। এই ট্যাঙ্কের জায়গা অর্থাৎ ৪৮২ একর জমি দান করেছিলেন বাবু খেলাদ ঘোষ নামক এক ব্যক্তি। তাঁরই জমিতে তৈরি হয়েছিল প্রায় ১০ তলা বাড়ির সমান এই ট্যাঙ্ক। ১৯০৯ সালে তৎকালীন গভর্নর স্যার এডওয়ার্ড বেকার এই ট্যাঙ্কের শিলান্যাস করেন এবং ১৯১১ সালে নাগরিকদের জল সরবরাহ করার জন্য খুলে দেওয়া হয় এই ট্যাঙ্কটি।

আশ্চর্য্য বিষয় হলো পুরোপুরি কাঠের পাটাতন এর উপর কোনো স্ক্রু ছাড়ার ৩২১ ফুট×৩২১ ফুট বর্গাকার এই বিশালাকার টাঙ্কটি এখনোও গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে মানুষকে জল সরবরাহ করে যাচ্ছে। প্রথমে 'টালা ট্যাঙ্ক'-এর ছাদটি ছিল চুনসুরকির, পরে ছাদে ১৪ ইঞ্চি পুরু কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি করা হয়।'টালা ট্যাঙ্ক'-এর ফাউন্ডেশন এর কাজ করেছিল টি সি মুখার্জি এন্ড কোম্পানি এবং কংক্রিট ফাউন্ডেসন এর কাজ করেছিল রাজেন্দ্রলাল মুখার্জির মার্টিন এন্ড কোম্পানি, স্টিলের কাজ করেছিল ইংল্যান্ডের ক্লিটেনসন এন্ড কোম্পানি। পরে ছাদ টি যখন কংক্রিটের তৈরি হয়েছিল তখন কাজ করেছিলেন আরাকন এন্ড কোম্পানি এবং বাবু কালীশঙ্কর মিত্তির। ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪১ স্কোয়ারফিট এই ট্যাঙ্কটি এতটাই বিশাল আকার যে অনায়াসে একটা ফুটবল স্টেডিয়াম ঢুকে যেতে পারে এই ট্যাঙ্কের ভিতর। ৪ টি কম্পার্টমেন্ট যুক্ত এই বিশালাকার টাঙ্কটি খুবই বিচক্ষণতার সাথে এবং বুদ্ধি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিক যাতে ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গেলে কোনো ভাবে যেন জল সরবরাহ ব্যহত না হয়। এতো বড় আকারের ট্যাঙ্কটির জল ধারণ ক্ষমতা শুনলে চোখ কপালে তুলতে আপনি বাধ্য! ৯০লক্ষ গ্যালন জল ধরার ক্ষমতা রাখে এই বিশাল আকারের টাঙ্কটি। এর উচ্চতা ১৮ ফুট, কিন্তু জল থাকে ১৬ ফুট পর্যন্ত। দমদম থেকে দক্ষিনের ভবানীপুর পর্যন্ত এই জল আন্ডার গ্রাউন্ড পাইপ এর মাধ্যমে পৌঁছে যায় প্রতিটি কলকাতাবাসীর ঘরে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+