হোয়াটস অ্যাপে মান্যতা, ই-নোমিনেশনে নয়, অনলাইনের আশা দুরাশাই বিরোধীদের
হোয়াটস অ্যাপকে মান্যতা দিয়ে ভাঙড়ের আন্দোলনকারী মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ দিলেও, বামেদের ই-নোমিনেশনের আবেদনকে খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
হোয়াটস অ্যাপকে মান্যতা দিয়ে ভাঙড়ের আন্দোলনকারী মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ দিলেও, বামেদের ই-নোমিনেশনের আবেদনকে খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে ফের ই-মনোনয়ন গ্রহণ করার জন্য আবেদন করে বামফ্রন্ট। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন। কিন্তু তাঁর সওয়ালের পর আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

বামেরা মনোনয়ন চলাকালীন কিছু আবেদন ই-মেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন বিডি অফিসে। যেহেতু তখন অনলাইনে কোনও আবেদন গ্রহণ করার নিয়ম ছিল না, মনোনয়ন গ্রহণ করার কোনও দাবি ওঠেনি। কিন্তু মঙ্গলবার ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের হোয়াটসআপে করা মনোনয়ন যখন গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হল, তাঁদের ই-মেলের আবেদন কেন গ্রহণ করা হবে না, দাবি জানাল বামনেতৃত্ব।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে এদিনের মামলা। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলা উঠলেও বিচারপতিতা খারিজ করে দেন। তিনি বলেন ই-নোমিনেশনের ব্যাপারে তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। এরপরই সিপিএম নেতা রবীন দেব ঘুরিয়ে সমালোচনা করেন হাইকোর্টের এই নির্দেশের।

বামেদের কথায়, দু-দিন দু-রকমের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভাঙড়ের আন্দোলনকারী পঞ্চায়েত প্রার্থীরা আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পেলেও, বামেরা পেলেন না। মঙ্গলবার হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ভাঙড়ের জমি আন্দোলনকারীদের মনোনয়ন বাতিল করা যাবে না। যদি ওই প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়, তবে ওই এলাকায় ভোট স্থগিত করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় আদালত। এই সংক্রান্ত মামলা ফের ৩০ এপ্রিল শুনবে বলে জানায় হাইকোর্ট।

এদিন ওই মামলার রায়ের ভিত্তিতেই বামেরা ই-নোমিনেশনের আর্জি জানান। তাঁদের ই-মেলের আবেদন গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয় এই মামলায়। কিন্তু সময় অতিবাহিত হয়ে যাহার দোহাই দিয়ে হস্তক্ষেপ না করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় হাইকোর্ট। এর ফলে বামেরা এদিন ধাক্কা খেলেন হাইকোর্টে। অবশ্য এই রায়কে জয়-পরাজয়ের হিসেবে দেখতে চাইছে না নেতৃত্ব।
তাহলে কেন বারবার সিপিএম আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছে? রবীন দেব বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্র আক্রান্ত। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত। এই অবস্থায় কমিশন কথা শুনছে না, তাই বারবার আদালতে আসতে হচ্ছে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার আর্জি নিয়ে। এছাড়া আমাদের হাতে বিকল্প কোথায়! বিকল্প আছে, তা তো আমরা গ্রহণ করতে পারি না।
এদিন ই-নোমিনেশনের আর্জি খারিজ হয়ে গেলেও সিপিএমের আদালত অবমাননার মামলা গ্রহণ করে হাইকোর্ট। জুন মাসে শুনানি হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পঞ্চায়েত ভোট বিলম্বিত করার জন্য বারবার আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে বিরোধীরা। কোর্ট আজ বামেদের আবেদন শুনে তা পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে। মান্যতা দেয়নি ই-নোমিনেশনে।












Click it and Unblock the Notifications