পুনর্নিয়োগের কোনো অধিকার নেই রাজ্যের, উপাচার্য নিয়োগ মামলায় ধাক্কা হাইকোর্টে
উপাচার্য নিয়োগ মামলায় ডিভিশন বেঞ্চে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার হইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উপাচার্যদের পুনর্নিয়োগের কোনো অধিকার নেই রাজ্যের। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

হইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, রা্জ্যে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা নেই, পুনর্নিয়োগের তো ক্ষমতা নেই-ই। এর ফলে রাজ্যের নিয়োগ করা অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠে পড়ল। রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিল সে কথা।
রা্জ্যজুড়ে ২৯ জন উপাচার্যকে মেয়াদ শেষে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে সেই পুনর্নিয়োগ বাতিল হতে চলেছ বলে মনে করছে ওয়াকবহাল মহল। রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাতে কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল।
রাজ্য সরকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উপাচার্যদের যে পুনর্নিয়োগ করেছিল, সেই পদক্ষেপ আদৌ নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় হাইকোর্টে। কলকাতা বিশ্বদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তীর পুনর্নিয়োগ নিয়েই মূলত মামলাটি হয়। তা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোনালি চক্রবর্তীর পুনর্নিয়োগ বাতিল হয়েছে। তাঁর নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন সহ উপাচা্র্য। এবার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনর্নিয়োগ বাতিল করে দিল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ করতে পারবেন একমাত্র আচার্য। উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতে থাকবে না। একইসঙ্গে রাজ্যের নিয়োগ করা সকল উপাচার্যের পদ খারিজ করার নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট।
এই রায়ে উল্লেখ করা হয়ছে ২০১৮ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী নিয়োগ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাটার্যদের। ফলে সকল নিয়োগও অবৈধ হয়ে গেল। এখন দেখার সম্প্রতি আচার্য ততা রাজ্যপাল উপাচার্যদের অন্তর্বর্তীকালীন যে নিয়োগ করেছিলেন, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল কি না।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আচার্য রাজ্যপাল একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসের জন্য পুনর্নিয়োগ করেছিলেন। সেই নিয়োগকে বৈধ বলে একাংশ ব্যাখ্যা করেছেন। কেননা হাইকোর্টে জানিয়েছে, আচার্য নিয়োগ করতে পারবেন। আর এই নিয়োগ তো করছেন আচার্য স্বয়ং। একাংশ আবার বলছেন, আচার্য নিয়োগ করেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন। তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications