পর্ষদের কেড়ে নেওয়া চাকরি ফিরিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট, ভর্ৎসনা প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে

পর্ষদের কেড়ে নেওয়া চাকরি ফিরিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট, ভর্ৎসনা প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কেড়ে নেওয়া চাকরি ফিরিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্যদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগে, চাকরিপ্রার্থীর বাতিল চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি।

চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতির

চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতির

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, মুর্শিদাবাদের মিরাজ সেখকে ছ'মাসের মধ্যে চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। এই মর্মে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে নির্দেশ দেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি চাকরি পেয়েছিলেন। চার মাস পরে তাঁর চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়। আবার সেই চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।

বাংলা এমন রাজ্য টাকা না দিলে চাকরি হয় না!

বাংলা এমন রাজ্য টাকা না দিলে চাকরি হয় না!

বিচারপতি এদিন কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যকে ভর্ৎসনা করে বলেন, বাংলা বর্তমানে এমন একটা রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে টাকা না দিলে চাকরি হয় না। এরপর তিনি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যকে ভর্ৎসনা করে বলেন, মানিক সরকারকে হয়তো টাকা দেননি ওই প্রার্থী, তাই তাঁর চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

চাকরি পাওয়ার চার মাস পর চাকরি বাতিল

চাকরি পাওয়ার চার মাস পর চাকরি বাতিল

২০২১ সালের ডিসেম্বরে চাকরি পাওয়ার পর চার মাস শিক্ষকতা করেছিলেন মুর্শিদাবাদের মিরাজ। তারপর তাঁর সার্ভিস বুক তৈরির সময়, তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি ওই চাকরির যোগ্য নন বলে তাঁর চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর মিরাজ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই মামলাতেই এদিন ওই চাকরিপ্রার্থীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

টাকা না দেওয়ায় প্রাপ্য চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়!

টাকা না দেওয়ায় প্রাপ্য চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়!

এর আগে স্কুল সার্ভিস কমিশন দুর্নীতি মামলায় চাকরিপ্রার্থী ববিতা সরকারকে বঞ্চিত করে মন্ত্রী-কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় অঙ্কিতার চাকরি কেড়ে ববিতাকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। অভিযোগ ছিল, টাকার বিনিময়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে ববিতাকে বঞ্চিত করে অঙ্কিতাকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এবার অভিযোগ উঠল, টাকা না দেওয়ায় প্রাপ্য চাকরি কেড়ে নেওয়া হল।

যোগ্যতা ছিল না তো নিয়োগপত্র কার্যকর হল কীভাবে?

যোগ্যতা ছিল না তো নিয়োগপত্র কার্যকর হল কীভাবে?

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মিরাজ মামলায় এদিন বাংলা ও বাংলার সরকারকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি যে মন্তব্য করেছেন, তা তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, বাংলা এমন একটা রাজ্য যেখানে টাকা ছাড়া চাকরি হয় না। চেয়ারম্যানকে টাকা দেয়নি বলে, একজনকে নিয়োগপত্র দিয়েও চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা নিন্দনীয়। কারও চাকরি দেওয়া হচ্ছে টাকার বিনিময়ে, কাউকে টাকা না দেওয়ায় চাকরি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, যোগ্যতা ছিল না নিয়োগপত্র কার্যকর হল কীভাবে?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+