মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কলকাতায় মৃত অন্তত ৭, কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুম থেকে বিশেষ বার্তা ফিরহাদের
কলকাতায় মেঘভাঙা বৃষ্টি। আর তাতেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হলে অন্তত সাতজনের। অসমর্থিত সূত্রে তেমনই খবর।
কলকাতা, সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনের সিংহভাগ অংশ জলবন্দি। বিপাকে দুর্গাপুজোর আয়োজকরাও।

গতকাল রাত থেকে হওয়া ঘণ্টা পাঁচ-ছয়েকের মতো বৃষ্টি কলকাতায় শেষ কবে দেখা গিয়েছে তা কেউ মনে করতে পারছেন না। কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ তিনশো মিলিমিটারের বেশি, কোথাও তিনশো মিলিমিটারের থেকে সামান্য কম। এই অবস্থায় কলকাতা কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমে নজরদারি চালাচ্ছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। রয়েছেন তারক সিং-সহ মেয়র পারিষদ, কমিশনার প্রমুখ।
ফিরহাদ হাকিম বলেন, গড়িয়ার দিকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে, সেখানে ড্রেনেজ সিস্টেমও নেই। কলকাতায় বড় হয়েছি। উত্তরাখণ্ডের দিকে মেঘভাঙা বৃষ্টির খবর কাগজে পড়েছি। কলকাতায় এবার তা দেখলাম। এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি আগে দেখিনি। ১৯৭৮ সালে বন্যার কথা মনে আছে। তখন বয়স কম ছিল। বহু মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়েছিলাম। আমাদের পাড়া চেতলা আদি গঙ্গার পাশে। সেখানে জল আদি গঙ্গায় নেমে যায়। কিন্তু এবার তা হয়নি।
ফিরহাদের কথায়, আদি গঙ্গা ভরে রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল। নদীও টইটম্বুর। আজ বেলা দেড়টা নাগাদ একটা বান আসার কথা রয়েছে। আমাদের যেখানে পাম্পিং স্টেশন আছে সেখানে ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার জল ক্যানালে ফেলা যায়। কিন্তু তিনশো মিলিমিটার জল ফেলতে অনেক সময় লাগবে। তার উপর নদী, ক্যানাল ভরে থাকায় জল ফেললে, লকগেট খুললেও তা ফেরত আসছে। তবে বান চলে গেলে, আর বেশি বৃষ্টি না হলে কলকাতার অনেক জায়গাতেই রাতের মধ্যে জল নেমে যাবে বলে আশাবাদী ফিরহাদ।
শহরে একাধিক মৃত্যুর খবরে উদ্বিগ্ন ফিরহাদ বলেন, কেএমসির লাইট জ্বলছিল না। কোথাও মিটার ঘর বা রাস্তার ধারে ফ্রিজ থাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জরুরি কাজ না থাকলে আজকের দিনে শহরবাসীকে বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ।
এদিকে, রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "শহর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই শোকের সময় নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি জানাই আমার আন্তরিক সমবেদনা।
আমার আবেদন, রাজ্য সরকার অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা প্রদান করুক। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থাকেও আবেদন করছি, জলমগ্ন অঞ্চলগুলিতে অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধারকার্য পরিচালনা করতে। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভাকে অনুরোধ করছি জমে থাকা জল নিষ্কাশনের জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে আমি রাজ্য প্রশাসনের প্রতি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"












Click it and Unblock the Notifications