গণপিটুনি বিলে 'দৃষ্টি বিভ্রম'! রাজ্যের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন রাজ্যপাল
একটি বিলের দুটি রূপ। যার জেরে বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলেও রাজ্যপালের কাছে গিয়ে আটকে রয়েছে রাজ্যের গণপিটুনি সংক্রান্ত বিলটি।
একটি বিলের দুটি রূপ। যার জেরে বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলেও রাজ্যপালের কাছে গিয়ে আটকে রয়েছে রাজ্যের গণপিটুনি সংক্রান্ত বিলটি। রাজ্যপাল আরও বিষদে জানতে দফতেরর আধিকারিকদের ডেকে পাঠালেও রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যা দৃষ্টিবিভ্রমের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও রাজ্যপাল এতসহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। ফলে গণপিটুনি সংক্রান্ত বিলটি আইনে পরিণত হয়ে পারেনি এখনও।

বিধানসভায় পাশ গণপিটুনি নিরোধক বিল
সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল গণপিটুনি নিয়ে আইন করতে। সেই মতো অগাস্টে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রিভেনশন অফ লিঞ্চিং বিলটি পাশ হয়। যদিও বিলটি নিয়ে বিরোধীদের তরফে তাঁর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। রাজভবন সূত্রে খবর, সেই অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকার এখনও অবস্থান নিতে পারেনি। ফলে বিলটি এখনও আইনে পরিণত হচে পারছে না।

বিল নিয়ে জটিলতা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিলটি পাশ করানোর আগে প্রথা মতো বিধায়কদের তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যা বিধানসভায় পাশ হয়, তা বিধায়কদের যেটি দেওয়া হয়েছিল তা থেকে ভিন্ন। প্রথমটিতে সর্বোচ্চ সাজা বলা হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরেরটিতে তা মৃত্যুদণ্ড করা হয়। দুটি বিলের নম্বর এক হলেও, বিধানসভায় এর জন্য কোনও সংশোধনী পেশ করা হয়নি।

বিরোধীদের আপত্তিতে সক্রিয় রাজ্যপাল
বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন রাজ্যপাল। তিনি বিধানসভার সচিবালয়ের উত্তরে সন্তুষ্ট হতে না পারায়, স্বরাষ্ট্র দফতরে চিঠি পাঠান। সেখান থেকে ছাপার ভুল বলে অন্য দফতরের ঘাড়ে দোষ চাপানো হয় বলেই জানা গিয়েছে। এরপরেই রাজ্যপাল আইন দফতরকে চিঠি লেখেন। সেখান থেকে জানানো হয় দৃষ্টি বিভ্রম অর্থাৎ অপটিক্যাল ইলিউশনের কারণেই বিষয়টি হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই দৃষ্টিবিভ্রম ঘটল তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন রাজ্যপাল।

বিরোধীদের আপত্তি
বিরোধীদের অন্যতম আপত্তির কারণ বিলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা নিয়ে। তাদের মতে সরকারে এই সিদ্ধান্তে পিছনের দিকে যেতে হবে। তবে দেশের সংবিধানে এমন কোনও সংশোধন হয়নি যে সেখানে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা যাবে না। ফলে সেদিক থেকে কোনও বাধা নেই রাজ্য সরকারের।












Click it and Unblock the Notifications