রাজ্যকে সতর্ক করে বিবৃতি জারি রাজ্যপালের, সুকান্তের সঙ্গে বৈঠকের পর জল্পনা সত্যি
বিজেপি রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের পরেই রাজ্যপাল কী অবস্থান নেন, সেদিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। অদ্যবধি পরেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস একটি বিবৃতি জারি করেন।
সিভি আনন্দ বোস বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্বতে আসার পর বিরোধী দলের কোনও নেতার সঙ্গে এই প্রথম একান্তে বৈঠক করলেন। শনিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতির সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে ২ ঘণ্টা রাজভবনে বৈঠক হয়। আর তারপরই রাজ্যপাল কড়া বিবৃতি জারি করেছেন রাজ্যকে সতর্ক করে।
শনিবার সকালে রাজভবনে গিয়ে একটি অভিযোগপত্র রাজ্যপালের হাতে তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তারপরই রাজ্যপাল কড়া বিবৃতি জারি করেন। বৈঠকের পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছিলেন, রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি তাঁর সমস্ত অভিযোগ মন দিয়ে শুনেছেন। তাঁর হাতে একটি অভিযোগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন নির্বিঘ্নে করতে হবে, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে। আশনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় হতে হবে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের পরেই রাজ্যপাল কী অবস্থান নেন, সেদিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। অদ্যবধি পরেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস একটি বিবৃতি জারি করেন। বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, গত দু-মাসের অভিজ্ঞতা থেকে মূলত তিনটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার বলে তিনি জানিয়েছেন।
রাজ্যপাল বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন- এক, ভারতের সংবিধান অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করতে হবে। দুই, আইনের শাসন কায়েম করতে হবে। তিন, বাংলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। রাজ্যপাল এ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন। একইসঙ্গে তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচন নির্বিঘ্নে করা, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি ও আশনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
উল্লেখ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তাঁর অভিযোগপত্রে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমনকী একুশের নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তারপর দুর্নীতির কথা তো ছিলই। রাজ্যে যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে, তাও জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে এই মর্মে কটাক্ষ করেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে রাজ্যপালের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য বিধানসভায় অভব্যতা করা হয়েছে, তার জন্যই তিনি ক্ষমতা চাইতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে।
উল্লেখ্য, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্যের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলায় বিজেপি প্রথম থেকেই সমালোচনা করতে থাকে। সেই সমালোচনা প্রবল আকার নেয় রাজভবনে সরস্বতী পুজো করে রাজ্যপাল হাতেখড়ি নেওয়ায়। তিনি বাংলা শেখার ইচ্ছাপ্রকাশ করায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হাতেখড়ি অনুষ্ঠান হয়।












Click it and Unblock the Notifications