উপাচার্য নিয়োগ মামলা: মমতার সঙ্গে বৈঠকেও কাজ হয়নি, বোসের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ তুলল রাজ্য। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপালের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত চলছে। সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে মুখোমুখি বসে আলোচনা করতে বলেছিল। তারপরেও সেই জট কাটেনি। এমনই অভিযোগ উঠছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে উপাচার্য নিয়োগ বিষয়ে শুনানি ছিল। সেখানেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়েছিলেন রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করতে। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। দুজনের বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই সব সিদ্ধান্ত আর রূপায়ণ হয়নি।

সর্বোচ্চ আদালত রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে এই বৈঠক করতে পরামর্শ দিয়েছিল। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নেন এই বৈঠকের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপাচার্যের নিয়োগের জন্য নামের একটি তালিকা দিয়েছিলেন রাজ্যপালের কাছে। সিভি আনন্দ বোস সেটি বিবেচনা করবেন। সেই তালিকা থেকে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করা হবে। এই কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর আর কোনও কিছু এগোয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট চাইছে দুজন সাংবিধানিক প্রধান বৈঠকে বসে বিষয়টি সমাধান করুক। তাদের মতামত উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাক। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল দুজনে মিলে বৈঠক করে উপাচার্য নিয়োগ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসুক। সুপ্রিম কোর্ট চাইলে উপাচার্য নিয়োগ বিষয়ে কমিটি তৈরি করতে পারে। তবে এখনও আদালত চাইছেন, দুই সাংবিধানিক প্রধানের মধ্যে আলোচনা হোক। সিদ্ধান্ত গৃহীত হোক।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিক্ষা বিল নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যপাল সেই বিল আটকে রেখেছেন। এমন অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টেও এদিন সেই প্রসঙ্গ উঠেছে রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়। রাজ্যপাল ওই বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে পারেন। বিলের পক্ষে সম্মতি দিতে পারেন। অথবা রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু কোনওটাই তিনি করছেন না।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের মতান্তরে আদালতে মামলা হয়েছে। রাজ্যপালের তরফ থেকে যে টাকা খরচ হচ্ছে। তাও রাজ্য সরকারকে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। রাজ্যের উপর রাজ্যপালের আইনি লড়াইয়ের অর্থ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মামলা মীমাংসার জন্য আরও কিছুটা সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এক্ষেত্রে দুই তরফকেই আরও আলোচনা করতে হবে বলে মত। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি হবে।












Click it and Unblock the Notifications