ইতিহাস রয়েছে সাক্ষী, এই বাড়ির দুর্গা দালানেই অভিনয় শুরু হিয়েছিল মহানায়কের
ইতিহাস রয়েছে সাক্ষী, এই বাড়ির দুর্গা দালানেই অভিনয় শুরু হিয়েছিল মহানায়কের
বিদ্যাসাগরের বহু আলোচিত সম্পত্তির উইলেও এই গিরীশ বাবুর স্বাক্ষর ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। বাঙালির চোখের মণি উত্তমকুমারের অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল এই ঠাকুরদালানেই। আর তা হল গিরিশ ভবনে।

উত্তম কুমারের অভিনয় কীভাবে এই বাড়িতে শুরু হল?
জানা যায় পুজোর দিনগুলোতে সারারাত যাত্রাপালার আয়োজন হত আর অভিনয় থেকে শুরু করে যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্বে থাকতেন উত্তমকুমার স্বয়ং। ১৯৭৫ এর পুজোয় শেষবার এই দালানে তিনি অভিনয় করেছিলেন।পুজোতে সেই সমারোহের ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছেন গিরীশ ভবনের সদস্যবৃন্দ। এবার ১৯০ বছরে পড়ল এই পুজো।
এই বাড়ি আর একটি কারণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ন কারণ,এই বাড়ির কয়েকটা বাড়ির পর মহানায়ক উত্তম কুমারের বাড়ি।তিনি এই বাড়িতে অঞ্জলী দিতেন।এবং এই বাড়ির জগৎধাত্রী পুজোতে নাটকে নিজে অভিনয় করতেন।বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় থাকতেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা।অভিনয়,রিহার্সাল সব কিছুর তদারকি নিজে করতেন বাঙালির চিরকালীন হার্টথ্রব। ১৯৭৫ সালে শেষবার স্বয়ংসিদ্ধা নাটকে তিনি অভিনয় করেন এই বাড়ির আঙিনায়।

পুজোর ইতিহাস
১৮৩২ খ্রীস্টাব্দে এই বনেদি বাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল প্রখ্যাত গুড় ব্যবসায়ী শ্রী হরচন্দ্র মুখার্জির তত্ত্বাবধানে। তাঁর সুপুত্র গিরীশ মুখার্জির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত হয় বর্তমানের ঠাকুরদালানটি। আদি পুজো শুরু হয়েছিল হুগলির ভদ্রকালী অঞ্চলে স্বর্গীয় কালাচাঁদ মুখার্জীর হাত ধরে,তাও প্রায় ২০০ বছর আগে।পরে স্বর্গীয় হরচন্দ্র মুখার্জী কলকাতায় এসে ভবানীপুর অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন।তার সুযোগ্য পুত্র,বিদ্যাসাগরের স্নেহধন্য শ্রী গিরীশ চন্দ্র মুখার্জীর হাত ধরে ১৮২৭ সালে পুনরায় পুজো শুরু হয়।গিরিশ মুখার্জীর নামানুসারে বাড়ির নাম "গিরিশ ভবন" ও সংলগ্ন রাস্তাটি গিরীশ মুখার্জী রোড নামে পরিচিত।

ঠাকুরদালান
বর্তমানে যে স্থানে ঠাকুরদালান আছে,প্রথমদিকে খড়ের চাল দেয়া ঠাকুরদালানে পুজো হতো।পরে সুরম্য ঠাকুরদালান তৈরি করা হয়। বিশেষত্বের দিক দিয়ে এই বাড়ির কুলপুরোহিত,ঢাকি,মূর্তিকার সবাই বংশানুক্রমে এই পুজোর সাথে যুক্ত।হাস্যময়ী মাতৃমূর্তির পরনে থাকে বেনারসী শাড়ী।মূর্তি সাজানো হয় নথ,টায়রা,টিকলি,সাতনরি হার,মুকুট,চুর নানাবিধ স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে।রাজরাজেস্বরী রূপে দেবী ঠাকুরদালান আলো করে থাকেন।বাড়ির সদস্যরা সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকেন।কেউ মাকে শাড়ী পড়ায়, কেউ গয়না পড়ায়, কেউ গণেশ- কার্তিক এর ধুতি পড়ায়,কেউ চালচিত্রে জড়ি কাগজ আটকায়।

নিয়ম নীতি
নবপত্রিকাকে বাড়ির বৌ মানা হয় তাই গঙ্গায় নবপত্রিকা যায় না,বাড়ির উঠানে স্নান করানো হয়।ওখানেই নবপত্রিকাকে বরণ করে দালানে ওঠানো হয়।শক্তির পুজো হলেও বলি হয় না।ভোগে খিচুড়ি,ভাজা,পোলাও ,পণির, ফ্রাইড রাইস,চাটনি দেয়া হয়।অষ্টমীর দিন ধুনো পোড়ানো হয়।বাড়ির সদসরা পুজোর কটা দিন এক হয়ে সংস্কৃতি চর্চা করেন।বিসর্জনের দিন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা মা কে মন্ত্রচারণ করতে করতে প্রদক্ষিণ করেন।তারপর মহিলারা মাকে বরণ করেন।দেবী প্রতিমা বাহকদের কাঁধে করে গঙ্গায় যান।












Click it and Unblock the Notifications