বিজেপি সভাপতি ঢুকতেই ওঁরা বলল- আমরা তৃণমূল করি! তা শুনেই ফিরেছিলেন অমিত
আশঙ্কাই সত্যি হল। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ পুরুলিয়ায় যে দুই পরিবারে গিয়েছিলেন, রাত কাটতেই সেই দুই পরিবারের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন তৃণমূলে।
আশঙ্কাই সত্যি হল। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ পুরুলিয়ায় যে দুই পরিবারে গিয়েছিলেন, রাত কাটতেই সেই দুই পরিবারের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন তৃণমূলে। আর তৃণমূলে যোগ দিয়ে ওরা সাফ জানালেন, 'আমরা তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই আছি, তৃণমূলেই থাকব। এমনকী অমিত শাহকেও জানিয়েছিলেন, তাঁরা তৃণমূল সমর্থক।

পুরুলিয়া রাজোয়ার পরিবারে অমিত শাহর যাত্রার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পরিবারের চার সদস্য যোগ দেন তৃণমূলে। শুক্রবার সকালেই কালীঘাটে নিয়ে আসা হয় দুই পরিবারের চার সদস্যকে। এরপর বিকেলে তৃণমূল ভবনে এনে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। মদন মিত্র ও সাংসদ শান্তনু সেন চার সদস্যকে তৃণমূলে যোগদান করান। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এদিনের ঘটনা দার্জিলিংয়ের নকশালবাড়ির ঘটনাকে ফের সামনে এনে দিল। নকশালবাড়িতে অমিত শাহকে পাত পেড়ে খাইয়েছিলেন দলিত দম্পতি গীতা ও রাজু মাহালি। তারপরই তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটল পুরুলিয়ায়। বৃহস্পতিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পুরুলিয়ার রাজোয়ার পরিবারে গিয়ে দেখা করেছিলেন। তারপরই ঘটা করে পরিবারের চার সদস্যকে কলকাতায় এনে যোগদান করানো হয়।
মদন মিত্র ও শান্তনু সেন বলেন, এই পরিবারের সদস্যরা কোনওদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতি করেননি। রাজনীতির কিছুই এঁরা জানেন না। এঁরা শুধু জানেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যাঁর মমতা-স্পর্শে এঁদের অভব-অনটনের পরিবারে দু-মুঠো অন্য জোটে। যাঁর জন্য অন্ধকারের দিন পেরিয়ে আলোর মুখ দেখেছে জঙ্গলমহল।
তাঁদের কথায়, এমন একটা পরিবারে চম্বলের ডাকাতের মতো চেহারা নিয়ে অমিত শাহ প্রবেশ করার পর তাঁদের উপর মানসিক চাপ বয়ে গিয়েছে। আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। তাই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হয়েছেন তাঁদের উপর ভরসার হাত রাখার জন্য। জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদেরকে বিজেপি সমর্থক বলে প্রচার করা হচ্ছে। তা আসলে ঠিক নয়। তাঁরা সবাই-ই তৃণমূলের ছিলেন তৃণমূলেরই সমর্থক থাকবেন।
অমিত শাহের পুরুলিয়া সফর শেষ হতেই পুরুলিয়া লাগদা গ্রামের এই ভোল পাল্টানো চেহারায় প্রবল চাপে রাজ্য বিজেপি। মাহালি দম্পতির পর ফের রাজোয়ার পরিবারে একই ঘটনা ঘটায়, তাদের জবাবদিহি করতে হতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। যদিও রাজ্য বিজেপি মনে করছে, এসব মিথ্যা অপপ্রচার। রাজোয়ার পরিবারের ওই চার সদস্যকে ভয় দেখিয়ে তৃণমূল নিয়ে গিয়েছে, তৃণমূলে যেগদান করিয়ে প্রচার পাবার চেষ্টা করছে। ওঁরা বিজেপিরই সমর্থক।












Click it and Unblock the Notifications