মমতার সাত বছরে বাংলায় উড়ালপুল বিপর্যয়ের সাতকাহন, নবতম সংযোজন মাঝেরহাট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভয়াবহতম ঘটনা ঘটেছিল দু-বছর আগে পোস্তা উড়ালপুল-কাণ্ডে। নবতম সংযোজন কলকাতার ব্যস্ততম ব্রিজ মাঝেরহাট।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলার বুকে ভেঙে পড়ল চার চারটি উড়ালপুল ও ব্রিজ। তার মধ্যে ভয়াবহতম ঘটনা ঘটেছিল দু-বছর আগে পোস্তা উড়ালপুল-কাণ্ডে। আর এই 'সিরিজে'র নবতম সংযোজন কলকাতার ব্যস্ততম ব্রিজ মাঝেরহাট। দিনের ব্যস্ত সময়ে মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ায় ফিরে আসে পোস্তার ভয়াবহ স্মৃতি।

উল্টোডাঙা উড়ালপুল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার কিছুদিন আগে উদ্বোধন হয়েছিল উল্টোডাঙা উড়ালপুলের। বাম আমলে তৈরি হওয়া এই উড়ালপুল ভেঙে পড়েছিল উদ্বোধনের ঠিক ২ বছর ২ মাসের মাথায়। দিনটা ছিল ২০১৩ সালের ৪ মার্চ। একটি লরি নিয়ে উড়ালপুলটি ভেঙে পড়ে। ভিআইপি রোড থেকে ইএম বাইপাস যাওয়ার উড়ালপুলটি ভেঙে পড়ায় সেবার কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আহত হয়েছিলেন তিনজন।

পোস্তা উড়ালপুল
এর পরেই ঘটে ভয়াবহতম পোস্তা উড়ালপুল দুর্ঘটনা। ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টায় পোস্তার ঘিঞ্জি এলাকায় ভেঙে পড়ে নির্মীয়মান বিবেকানন্দ উড়ালপুল। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৭ জনের, জখম হন ৮৯ জন। স্বভাবতই এই ঘটনার ভয়াবহতা তীব্র রূপ নেয় রাজ্যে। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোরও। সেইসঙ্গে তৈরি হয় পোস্তা উড়ালপুলেক বাকি অংশ নিয়ে সংকট। শেষমেশ আদালতের নির্দেশে ওই উড়ালপুল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিলিগুড়ি উড়ালপুল
পোস্তার মতোই নির্মীয়মান উড়ালপুল ভেঙে পড়ে শিলিগুড়িতে। ৩১ ডি জাতীয় সড়কের উপর উড়ালপুলটি ভেঙে পড়েছিল এই বছরেরই ১১ আগস্ট। শিলিগুড়ি মহকুমার গোয়ালতুলি এলাকার নির্মীয়মান উড়ালপুলটি সকালের দিকে ভেঙে পড়ায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এই উড়ালপুলটি ভেঙে পড়ার কারণ হিসেবে নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উড়ালপুলের নির্মীণকার্যের শ্রমিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়

মাঝেরহাট ব্রিজ
আর এই উড়ালপুল বা ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় নবতম সংযোজন মাঝেরহাট ব্রিজ। এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। সেইসঙ্গে ব্রিজ থেকে রেল লাইনের পাশে মুখ থুবড়ে পড়ে একটি মিনিবাস, পাঁচটি ট্যাক্সি, বেশ কিছু বাইক। ঘটনায় হতাহেতর সংখ্যা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসমর্থিত সূত্রে পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications