রিপন স্ট্রিটে বন্ধ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, বিপাকে বিদেশি পর্যটকরা
রিপন স্ট্রিটের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলি এখন খাঁ খাঁ করছে। নোট বাতিলের ধাক্কায় পর্যটনের মরশুমেও ঝাঁপ বন্ধ অধিকাংশ এজেন্সির। বিদেশি পর্যটকরা পড়েছেন ঘোর বিপাকে।
কলকাতা, ১৮ নভেম্বর : রিপন স্ট্রিটের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলি এখন খাঁ খাঁ করছে। নোট বাতিলের ধাক্কায় পর্যটনের মরশুমেও ঝাঁপ বন্ধ অধিকাংশ এজেন্সির। বিদেশি পর্যটকরা পড়েছেন ঘোর বিপাকে।
নভেম্বরের ৮ তারিখ থেকেই এই মহল্লায় ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সিগুলিতে শুরু হয়েছে মন্দার বাজার। পর্যটকেরা দোকানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। যে সামান্য পুঁজি ছিল তা দিয়েই কেনওরকমে চলছিল টিকিট বুকিংয়ের কাজ। কিন্তু সেই ভাঁড়ারেও টান পড়েছে। এখন কোনও উপায় না পেয়ে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তাঁরা।

রিপন স্ট্রিটের দু'ধারেই রয়েছে সারি সারি বৈদেশিক মদ্রা বিনিময় কেন্দ্র ও ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের এজেন্সি। এক এজেন্টের কথায়, ৯ তারিখ ছিল ব্যাঙ্ক বন্ধ. সেদিন থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগটাই হয় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে। তাই আমাদের কাছে পুরোনো ৫০০ ও ১০০০ নোটই বেশি ছিল। এখন তো সেসব অচল নোট। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে ব্যাঙ্কে গোটা দিন দাঁড়িয়ে থেকেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের পক্ষে পর্যাপ্ত টাকার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একরকম বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা। কারও জানা নেই পরিস্থিতি কবে বদলাবে। কেউ কেউ ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন। ব্যাঙ্কে টাকা পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থার উন্নতি হওয়ার আশা কম।
এদিকে, প্রযোজনীয় অর্থের জোগান না পেয়ে রীতিমতো সমস্যায় বিদেশী পর্যটকরা। তাঁদের কেউ অর্থের অভাবে খাওয়া দাওয়ার বিল মেটাতে পারছেন না। আবার কেউ চিকিৎসা করাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। ঢাকার বাসিন্দা গোলাম ফারুক রীতিমত ক্ষোভ উগরে দিলেন। বললেন, 'আপনাগো লইগা খায়নদায়ন বন্ধ হওয়ার জুগার। আমার খাইয়া বিল দিতে পাইরত্যাসি না।' গাজিপুরের বাসিন্দা এমএ আলম বলেছেন, 'গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসেছি। সরকারের বিদেশিদের কথা ভাবা উচিত ছিল। আমরা খুব কষ্টে আছি। কোথায় যাব!
ঢাকার বাসিন্দা টিপু সুলতান কলকাতায় এসেছেন চিকিৎসা করাতে। রুবি, অ্যাপলো, নারায়ণায় ঘুরেছেন। মুখে বললেও কোথাও ৫০০ টাকার নোট ভাঙাতে নিতে চাইছেন না। ফলে ভাবছেন দেশে ফিরে যাবেন। এই আর্থিক সংকট মিটলে আবার চিকিৎসার জন্য ভারতে আসবেন।
এদিকে অভিযোগ, রিপন স্ট্রিটে ৫০০ ও হাজার টাকার জোগান না থাকার কারণে বিপণন কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকলেও কিছু অসাধু মানুষের কাছে মিলছে টাকার জোগান। অভিযোগ তারা পর্যটকদের কাছ থেকে ১০০০ টাকার বিনিময়ের ৮০০ টাকা ভাঙতি দিচ্ছেন। বাংলাদেশের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, এমনি ১০০ টাকার নোট মিলছে না। তবে ১০০০ টাকায় ৮০০ টাকা নিতে চাইলে, তা কিন্তু মিলছে সহজেই।












Click it and Unblock the Notifications