রেড রোড-কার্নিভাল নিয়ে ফেসবুকে তির্যক মন্তব্য ছাত্রীর, সবক শেখাতে ছবি দিয়ে টাঙানো হল ফ্লেক্স!
মুখ্যমন্ত্রীর রেড রোডে শোভাযাত্রার গ্র্যান্ড-শো নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় রাজ্যের সরকারি দলের রোষানলে পড়লেন কলাকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।
কলকাতা, ১৮ অক্টোবর : রেড রোডে বিসর্জনের কার্নিভালকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে তির্যক মন্তব্য করায় রাজ্যের সরকারি দলের রোষানলে পড়লেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। অপরাধ তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর রেড রোডে শোভাযাত্রার গ্র্যান্ড-শো নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, 'ভাসানে হরিবোল!! মাননীয়া আপনি চুলোয় যান!' আর তাতেই রেগে আগুন নাগরিক কমিটি। সবক শেখাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর বাড়ির সামনেই তাঁর ছবি সম্বলিত মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের ফ্লেক্স টাঙানো হল। ধিক্কার জানান হল ছাত্রীর ওই ধরনের মন্তব্যকে।
এই ঘটনায় ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ আবারও প্রশ্নের মুখে পড়ল নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার। আরও একটা 'অপরাধ' আছে ওই ছাত্রীর। তিনি বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ অন্যদিকে, ওই নাগরিক কমিটির সদস্যরা শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে বিতর্ক আর থেমে থাকে কি? এই ঘটনায় নাগরিক সমাজের একাংশে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। একাংশের ধারণা, ওই ছাত্রীকে ফেসবুকের মাধ্যমেই তো ধিক্কার জানিয়েছেন অনেকে।

তাহলে ছবি-মন্তব্য দিয়ে ফ্লেক্স টাঙিয়ে সবক শেখানোর মানে কী? ফ্লেক্সে ওই ছাত্রীর নাম-ঠিকানা সব কিছুই দেওয়া রয়েছে। আসলে তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অনেকের আশঙ্কা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর নাম রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায়৷ এম টেক-এর ছাত্রী। থাকেন দমদমের ক্লাইভ হাউস এলাকায়। রেড রোডে দুর্গাপুজোর বিসর্জন-কার্নিভ্যালের যে আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার, সেই বিষয়ে ওই ছাত্রী তির্যক মন্তব্য করেছিলেন নিজের ফেসবুক পেজে। তার জন্য যে এহেন মাশুল দিতে হবে তখন বোঝেননি তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই তির্যক মন্তব্যকে ঘিরে ফেসবুকে সমর্থনে বা বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য এবং পাল্টা মন্তব্য করা হয়েছে৷ তবে তারপর যা হল সুস্থ সমাজের পক্ষে তা আদৌ রুচিকর নয়। রাজশ্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ফেসবুকে আমার পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করিনি। ওই মাননীয়া শব্দটি কারও কারও গায়ে লেগেছে৷ একজন নাগরিক হিসেবে আমি আমার ব্যক্তিগত মত ব্যক্ত করেছিলাম মাত্র। তার জন্য এই ভাবে একটি মেয়ের নামে ছবিসহ ফ্লেক্স টাঙানো হবে, ভাবতে পারিনি! অন্যভাবেও প্রতিবাদ জানানোযেত।
তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন রাজশ্রী। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এ ব্যাপারে সরব হয়েছে। এই ঘটনাকে মারাত্মক প্রবণতা বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তারা। ওই ছাত্রীর পাশে থাকার কথাও বলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি।












Click it and Unblock the Notifications