Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতি নিয়ে হেঁটে চলেছে তিলোত্তমা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতি নিয়ে হেঁটে চলেছে তিলোত্তমা

১১ ই নভেম্বর ১৯১৮ ভোর পাঁচটায় জার্মানি মিত্র বাহিনীর সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করল । আরও ছয় ঘন্টা পর সকাল এগারোটার সময় ( এগারোতম মাসে এগারোতম দিনে এগারোতম ঘন্টায় ) সরকারি ভাবে শেষ হল মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম ভয়ঙ্কর হত্যালীলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দি গ্রেট ওয়ার।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতি নিয়ে হেঁটে চলেছে তিলোত্তমা

প্রায় পনেরো লক্ষ ভারতীয় এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। নিহত হয়েছিল প্রায় সত্তর হাজার ভারতীয় সৈন্য।বিশ্বযুদ্ধত্তোর সময় ব্রিটিশরা ভারতীয়দের পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো স্বায়ত্তশাসন না দিলেও সারা ভারত জুড়ে নির্মাণ করেছিল এই যুদ্ধের স্মৃতি সৌধ। ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম শহর কলকাতায় বাদ যায়নি। কলেজ স্কোয়ার এ বেঙ্গলি ওয়ার মেমোরিয়াল, রেড রোডে গ্লোরিয়াস ডেড সেনোটাফ ,হেস্টিংসের এর লস্কর মেমোরিয়াল , সেন্ট জনস চার্চের ভিতর এডওয়ার্ড আপটন আর লেসলি ব্রাদার্সের স্মৃতিফলক এই যুদ্ধের স্মৃতি কলকাতার বুকে বহন করে চলেছে। আজ কলকাতাবাসী কমবেশি এই ফলকগুলির সাথে পরিচিত।

কিন্তু এই ফলকগুলি ছাড়াও এই মহাযুদ্ধে নিহত কিছু সৈন্যদের কবর আজও খুব যত্নের সাথে এই শহরের বুকে রক্ষিত আছে।
ভবানীপুর সেমিটারী। কলকাতার আর পাঁচটা খ্রীষ্টান কবরখানার থেকে অনেকটাই আলাদা।লোয়ার সার্কুলার রোড কবরখানার মতো এখানে আজও মৃতদেহ কবর দেওয়া হলেও এর ভিতরে আছে '' কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস '' এর এক বিশাল অংশ। ভারতীয় এবং ব্রিটিশ মিলিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৯৫ জন সৈন্য এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৬১৭ জন সৈন্যের কবর দুই বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার স্মৃতি বহন করে চলেছে ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতি নিয়ে হেঁটে চলেছে তিলোত্তমা

১৮৬৪ সাল থেকেই ভবানীপুর সেমেটারীতে কবর দেওয়া হচ্ছে। ১৯৩৪ সালে ফোর্ট চিংড়িখালী থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৯৫ জন সৈন্যের কবর এখানে স্থানান্তরিত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত বেশ কিছু সৈন্যেকে এখানে কবর দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ নাগরিকের কবরগুলির সাথে এই শহীদ সেনাদের কবর গুলি মিশে শুরু হলে ''কমনওয়েলথ ওয়ার কমিশন'' যারা সারা বিশ্ব জুড়ে দুই বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের কবর রক্ষনাবেক্ষন করে ১৯৫৪ সালে এই কবরখানার ভিতর একটি অংশকে আলাদা করে চিহ্নিত করে এবং নিহত সৈন্যদের প্রায় ৭১২ টি কবর স্থানান্তরিত করে।আর একটি লক্ষ্য করার বিষয় হল এখানে কবর দেওয়া সৈন্যদের গড় বয়স কুড়ির নয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতি নিয়ে হেঁটে চলেছে তিলোত্তমা

গোরস্থান নিয়ে আম বাঙালির মধ্যে যে ধারণাটা আছে তা এখানে এলে ভেঙে যেতে বাধ্য । সুন্দর করে ছাঁটা ঘাস আর বাহারি গাছের সমন্বয়ে পুরো জায়গাটি অন্য রূপ পেয়েছে। কবর গুলিতে যত্ন আর নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষনের ছাপ স্পষ্ট যার দায়িত্বে আছে ''কমনওয়েলথ ওয়ার কমিশন''। জোর গলায় বলা যায় যে কলকাতার অনেক সাজানো গোছানো পার্ককে অনায়াসে টেক্কা দেবে একানকার এই বাগান আর অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত সৈনিকদের স্মৃতি নিয়ে হেঁটে চলেছে তিলোত্তমা

যদি কবরস্থান নিয়ে মনে কোন ছুৎমার্গ থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই ঘুরে দেখুন এই সুন্দর ওয়ার গ্রেভস গুলি। দেখুন কি ভাবে ১০০ বছর আগে কয়েকটি তরতাজা প্রাণকে উগ্রজাতিবাদী , সাম্রাজ্যবাদী ধ্যানধারণার জন্য অকালে ঝরে যেতে হয়েছিল। ভবানীপুর সেমিটারী খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+