জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা! পার্থ-তৃণাঙ্কুর-সহ আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর মমতার সরকারের
পাহাড়ে জিটিএ-র শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল শিক্ষা দফতর। উত্তর বিধাননগর থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জিটিএ-র স্কুলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই প্রথম অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের তরফে এফআইআর দায়ের করা হল।
পুলিশ সূত্রে খবর, শিক্ষা দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারি গোপাল হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার জিটিএ-র শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এরপর তড়িঘড়ি এফআইআর করল রাজ্য সরকার।

এফআইআরে যাঁদের নাম রয়েছে
এফআইআরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বিনয় তামাং, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, হাবড়া পুরসভার কাউন্সিলর বুবাই বসু, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা প্রান্তিক চক্রবর্তী, তৎকালীন ডিআই প্রাণ গোবিন্দ সরকারের নাম রয়েছে। এফআইআর-এ অন্তত আটজনের নাম রয়েছে বলে সূত্রের খবর। হুমকি, আর্থিক তছরুপ-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট পাহাড়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রহস্যজনক চিঠি নিয়ে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। আগামী পনেরো দিনের মধ্যে চিঠির সত্যতা অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দিতে হবে। ওই চিঠিতে পাহাড়ের স্কুল শিক্ষক ও পুরসভায় বেআইনি কর্মী নিয়োগের অভিযোগ করা হয়েছে। সেই চিঠিতে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের নাম করে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আগে এফআইআর নেয়নি থানা
এব্যাপারে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু আগেই সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্কুল শিক্ষা দফতর এব্যাপারে উত্তর বিধাননগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে আইসি এফআইআর না নেওয়ায় তাঁকে তলব করে হাইকোর্ট। বিচারপতি বলেন, তিনি মনে করছেন, পুলিশ কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। কেন সেই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নও করেছিলেন বিচারপতি।
বিচারপতি বসু তাঁর নির্দেশে বলেছেন, প্রায় ৭০০ জনের নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা কতটা রয়েছে, তা জিটিএকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। কোন যোগ্যতায়, কীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, তার নথিও আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত নিজেকে এক সরকারি আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে চিঠি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। সেই চিঠিতে পাহাড়ে দুইদফায় প্রায় ৭০০ জনের নিয়োগ বেআইনিভাবে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যক্তি। ওই চিঠিতে তৃণমূলের এক যুব নেতা, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও পাহাড়ের তৃণমূল নেতা বিনয় তামাংয়ের নাম আছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২২ সালে অভিযোগ সামনে
জিটিএ-র অধীন এলাকার বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে ২০২২ সালে। প্রশাসনিক বোর্ডে থাকার সময় অনৈতিকভাবে প্রায় ৫০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন বিনয় তামাং এবং অনিত থাপারা, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। গোর্খা আন এমপ্লয়েড প্রাইমারি ট্রেনড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন এব্যাপারে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ জনের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ।












Click it and Unblock the Notifications