সিঙ্গুরের ছায়া রাজারহাট-নিউটাউনে, জমিহারাদের বিক্ষোভ, প্রতিরোধে বিশাল বাহিনী মোতায়েন পুলিশের, গ্রেফত
নিউটাউন, ২৬ সেপ্টেম্বর : হয় ক্ষতিপূরণ, নয় জমি ফেরত। আবারও উত্তাল রাজারহাট-নিউটাউন। সিঙ্গুরের জমি ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে জমিহারা কৃষকদের। প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে পুলিশি টহল। নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে নিউটাউনে। সিঙ্গুরের ছায়া ক্রমেই জমাট বাঁধছে এলাকায়।
বাম আমলে হিডকোর জমি অধিগ্রহণের সময় মিলেছিল ক্ষতিপূরণ। যদিও এক্ষেত্রেও অনিচ্ছুক কৃষকদের সংখ্যাটা নেহাত কম ছিল না। কিন্তু সেই সময় দানা বাঁধেনি জমি বাঁচাও কমিটির আন্দোলন। সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক রায় বের হওয়ার পরই আবার জেগে উঠেছেন জমিহারা কৃষকরা। তাঁরা এখন সরব হয় জমি, নয়তো ক্ষতিপূরণের মাত্রা বাড়ানোর দাবিতে।

সিঙ্গুরের জমি ফেরতের দিন থেকেই হিডকোর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কৃষকরা। তাঁরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দাবিপত্রও পেশ করেন। এরপর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ আন্দোলন জারি থাকে। এরই মধ্যে পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার এই গ্রেফতারির পরই উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। নিউটাউন থানা ও হিডকোর অফিসের সামনে গ্রেফতারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ-অবস্থানের কর্মসূচি নেওয়া হয় সোমবার। বিক্ষোভ-আন্দোলন প্রতিরোধ করতে প্রশাসনও কোমর বেঁধে লেগে পড়ে। জলকামান, র্যাফ, কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
গ্রামে গ্রামে টহল দেওয়া শুরু করে বাহিনী। বেলা ১১টা থেকে পুলিশের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে জমায়েত বাড়তে থাকে। এই জমায়েত থেকেই জমি আন্দোলনের নেতা শেখ নিজামুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। উত্তেজনা আরও বাড়তে শুরু করে। নিজামুদ্দিন-সহ ৬ জমি বাঁচাও কমিটির নেতার বিরুদ্ধেই খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইন, ভয় দেখানো, বেআইনি জমায়েতের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুরনো মামলার দায়েই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে যুক্তি সাজাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে জমিহারা কৃষকদের যুক্তি, আমরা হিডকোর কাছে আবেদন জানাতে চাইছি শান্তিপূর্ণ পথে। কিন্তু পুলিশ অযথা বাধা দেওয়ায় অশান্তি ছড়াচ্ছে। জমিহারাদের অভিযোগ, দাবিপত্র জমা দিলেও কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না হিডকোর তরফ থেকে। আবেদন জমা দিতে বলা হচ্ছে ড্রপ বক্সে। পরে যদি আবেদনপত্র খুঁজে না পাওয়া যায়, তখন তাঁদের তরফ থেকে কোনও প্রমাণ থাকবে না। কোনও কিছুই তাঁদের হাতে থাকবে দেখানোর মতো। তাই অবিলম্বে দাবিপত্র জমা নিয়ে রসিদ দিতে হবে বলেও দাবি তোলেন তাঁরা।
এদিকে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের পর ফের রাজারহাট-নিউটাউনে জমি আন্দোলন যুদ্ধং দেহি রূপ নিতে চলেছে। যে কোনও মুহূর্তে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এলাকায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে ইতিমধ্যেই।












Click it and Unblock the Notifications