Sourav Ganguly: সৌরভকে রাম মন্দিরের অনুষ্ঠানে উপেক্ষা! লোকসভা ভোটেই বাংলায় যোগ্য জবাব পাবে গেরুয়া শিবির?
Sourav Ganguly: রাম মন্দিরের তড়িঘড়ি উদ্বোধন লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই। বিজেপি এই মন্দির উদ্বোধনকে সামনে রেখেই ধর্মের নামে ভোট চাইতে যাবে, দাবি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির।
বিজেপির তরফে এই অনুষ্ঠানকে অরাজনৈতিক বলে দাবি করা হলেও বেশ কিছু বিষয়ে রাজনীতির গন্ধ কিছুতেই ঢাকা যাচ্ছে না। তার বড় প্রমাণ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গতেই।

রাম মন্দির উদ্বোধনে আমন্ত্রণের চিঠি সচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে তুলে দেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর সংবাদসংস্থা মারফত জানা যায়, বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রের তারকাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংবাদসংস্থা মারফত লম্বা তালিকা ভাসিয়েও দেওয়া হয়। যদিও সেই তালিকার অনেককেই আজ অযোধ্যায় দেখা যায়নি।
হতেই পারে কেউ সত্যিই আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন, কিন্তু জরুরি কাজে থাকতে পারেননি। কিন্তু ওই তালিকার সত্যতা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে এ রাজ্যেই। কেন না, তালিকায় নাম ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কদের সঙ্গে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব হলো, সৌরভের কাছে কোনও আমন্ত্রণই পৌঁছয়নি।
বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের দিকেই তাকানো যাক। গেরুয়া শিবির এই রাজ্যটিকেও দখলে মরিয়া। ঝাড়খণ্ডের আইকন মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে অযোধ্যায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন আরএসএস ও বিজেপির রাজ্য স্তরের পদাধিকারীরা। কিন্তু পাশের রাজ্য বাংলায় এই চিত্র দেখা যায়নি।
অযোধ্যায় সচিন তেন্ডুলকর হাজির থাকলেও আমন্ত্রণই পেলেন না তাঁর সেরা ওপেনিং পার্টনার সৌরভ। অনিল কুম্বলেকে দেখা গিয়েছে। এমনকী ভেঙ্কটেশ প্রসাদও হাজির ছিলেন শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে। বর্তমান ভারতীয় দলের তারকাদের মধ্যে ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজও ছিলেন আমন্ত্রিত।
জানা যাচ্ছে, প্রতি রাজ্য থেকেই বিশিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঝাড়খণ্ড থেকে যেমন ১৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তাঁদেরই মধ্যে ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। যেখানে ভেঙ্কটেশ প্রসাদ আমন্ত্রণ পান, সেখানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে উপেক্ষার বিষয়টি মানতে পারছেন না অনেকেই। মানা সম্ভবও নয়।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে লগ্নি টানার লক্ষ্যে স্পেন সফরে গিয়েছিলেন। বার্তা দিয়েছিলেন তিনি বাংলায় বিনিয়োগ করবেন। এতেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সৌরভকে আক্রমণ করতে পিছপা হননি বিজেপি নেতারা। যাঁদের কেউ কেউ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সৌরভের বাসভবনে গিয়েছিলেন, নৈশভোজও সেরে এসেছিলেন।
বিজেপি নেতাদের এই কটাক্ষ নিয়ে সৌরভ কিছু বলেননি। প্রয়োজনও পড়ে না সকলের গুরুত্ব বাড়ানোর। তবে সাধারণ মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয়নি, সৌরভকে রাজনীতিতে নামাতে ব্যর্থ হয়েই বিলো-দ্য-বেল্ট আক্রমণ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো যায়, কিন্তু অযোধ্যার অনুষ্ঠানে কেন আমন্ত্রণ জানানো হলো না? প্রশ্ন তো উঠবেই। অন্তত ভেঙ্কটেশ প্রসাদ যেখানে আমন্ত্রিত!
সৌরভকে পশ্চিমবঙ্গের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করেছেন মমতা। সৌরভ আবার বিজেপি-শাসিত ত্রিপুরার পর্যটনের মুখে। ছত্তিশগড়ের নতুন মুখ্যমন্ত্রীও মহারাজকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সৌজন্যমূলক বৈঠক করেছেন। সেখানে বারবার ধাক্কা খাওয়া বঙ্গ বিজেপি নেতারা তো পড়শি রাজ্য থেকেও শিক্ষা নিতে পারতেন।
সৌরভের মতো আইকনকে অযোধ্যা মন্দিরের উদ্বোধনে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তা প্রথম প্রকাশিত হয় ওয়ানইন্ডিয়া বাংলায়। সূত্র মারফত বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় এবার ১৮টি আসন লোকসভা নির্বাচনে ধরে রাখা সম্ভব হবে না বিজেপির পক্ষে। জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, রাজনৈতিক কারণেই অ-রাজনৈতিক সৌরভকে উপেক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে।
রাম মন্দির উদ্বোধনের প্রভাব তামিলনাড়ুর মতো বাংলার ভোটবাক্সেও তেমনভাবে পড়বে না বলে উপলব্ধি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করার কারণেই আজকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে যায়নি। সৌরভকে আমন্ত্রণ না জানানোর মধ্যে দিয়েও স্পষ্ট রাম মন্দির নিয়ে রাজনীতিই হয়েছে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নানা সময় নানা প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাঁকে রাজনীতিতে আনা যায়নি। সৌরভের ঘনিষ্ঠ মহল জানে, সেটা হবেও না। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, সৌরভকে দলে যোগ দেওয়াতে না পারাতেই তাঁকে নানা সময় আক্রমণ করা হয়, সমালোচনা করা হয়। যারা এ সব করে তাদের চরিত্রই অবশ্য মানুষের সামনে উপস্থাপিত হয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সৌরভকে যেভাবে বিজেপি সাম্প্রতিককালে সমালোচনা করেছে তা মানুষ ভালোভাবে নেন না। এই আবহে রাম মন্দির উদ্বোধন অ-রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে রাজ্যের বিশিষ্টজনদের মতো সৌরভের বাড়িতেও আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়ে অন্তত নিজেদের ভাবমূর্তি কিছুটা উদ্ধার বা পাপস্খলনের চেষ্টা করতে পারেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। সৌরভকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রভাব জাতীয় ক্ষেত্রে তেমন না পড়লেও, এই উপেক্ষার জবাব বাংলায় গেরুয়া শিবির ভোটবাক্সে উচিত শিক্ষার মাধ্যমে পাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।












Click it and Unblock the Notifications