জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে ইডির হানা! একসঙ্গে ৮ জায়গায় তল্লাশি কেন্দ্রীয় সংস্থার
সাতসকালে রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে হানা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সল্টলেকের বিসি ২৪৪ ও বিসি ২৪৫ নম্বর বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। রেশন দুর্নীতি মামলায় এই হানা বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বর্তমানে তিনি রাজ্যের বনমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত বাকিবুর রহমানের যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। বাকিবুর রহমানের বহু কোটির সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ইডি। এর পিছনে প্রভাবশালী যোগ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে এদিন সকাল ছটা দশ নাগাদ আট থেকে দশ জনের ইডির আধিকারিকদের একটি দল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সল্টলেকের বাড়িতে হানা দেন। সেই সময় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বাড়িতে ছিলেন না। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আসেন। সূত্রের খবর বাড়িতে থাকা সবার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। ইডির আধিকারিকরা বর্তমান বনমন্ত্রীকে নয়, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানা গিয়েছে।
শুধু জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সল্টলেকের পাশাপাশি দুটি বাড়িতেই নয়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পিএ অমিত দের নাগের বাজারের জোড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। সবমিলিয়ে মোট আটটি জায়গায় এদিন সকালে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পিএ অমিত দের ভগবতী পার্কের অ্যাপার্টমেন্টে এবং কিছুটা দূরে স্বামী বিবেকানন্দ রোডে ভালবাসা অ্যাপার্টমেন্টে পাশাপাশি দুটি ফ্ল্যাট থ্রি বি ও থ্রি সি ফ্ল্যাটে তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বাকিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা মিলিয়ে দেখতে এই তল্লাশি বলে ইডি সূত্রে খবর।
পুজো কাটতেই রেশন দুর্নীতি মামলায় তৎপরতা শুরু করেছে ইডি। ইডি মধ্যেই মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বাকিবুর রহমান ইডির হেফাজতে। ৯৫ টি জায়গায় তার সম্পত্তি রয়েছে। জমির পরিমাণ ১৬০০ কাঠার বেশি। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটির বেশি বলে ইডি সূত্রে খবর। বিদেশেও রয়েছে বিপুল সম্পত্তি। রেশন দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করার টাকায় এই সম্পত্তি কিনা খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকরা।
বাকিবুর রহমান তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ ওঠায় দিন কয়েক আগে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, রাজনীতির মধ্যে পরিবারকে টেনে নিয়ে আসায় তিনি বিশ্বাস করেন না। রাজত্ব হল গাড়ির চাকা। চাকা ঘোরে। আজ যে ওপরে, কাল সে নিচে নেমে যায়। তিনি বলেছিলেন, মনে রাখতে হবে পরিবর্তন ঘটলে তাঁদেরও এই হাল হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন, কালিমালিপ্ত করতে চাইলেই তা করা যায় না।












Click it and Unblock the Notifications