রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ইডির! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই মুহুর্তে সিবিআই-এর পাশাপাশি ইডিও তদন্ত কর
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই মুহুর্তে সিবিআই-এর পাশাপাশি ইডিও তদন্ত করছিল নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে। সিবিআই-এর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নিষেধ থাকলেও ইডি তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত করছে ইডি। সেই মামলাতেই সোমবার দুপুরে সিজিও কমল্পেক্সে ইডির দফতরে ডাকা হয়েছিল তৃণমূলের পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে। দুপুর পার করে তিনি সেখানে হাজির হন। তাঁকে সেই সময় থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা। ১১ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় মানিক ভট্টাচার্যকে। নিয়োগে দুর্নীতি করে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছিল , তা কার কার কাছে এবং কোথায় গিয়েছে তাই জানতে চায় ইডি।

গভীর রাতে গ্রেফতার
সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় মানিক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বেশ কিছু নথি জমা দেন। ইডির অভিযোগ সেখানে একাধিক গরমিল ধরা পড়ে। তদন্তে পাওয়া গরমিলের প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরে কোন পথে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিত হয়েছে, কীভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে জানতে চান ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। এছাড়াও তিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইডিকে সাহায্য না করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাত একটার সময় তাঁকে গ্রেফতারের কথা জানায় ইডি।

সিবিআই তদন্তে রক্ষাকবজ থাকলেও ইডির ক্ষেত্রে তা ছিল না
ইডি মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করার পরে তা তাঁর বাড়িতে এবং আইনজীবীদের জানানো হয়। তাঁর আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টের রক্ষাকবচের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু ইডির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, রক্ষাকবচ রয়েছে শুধুমাত্র সিবিআই তদন্তের ক্ষেত্রে। আর এই রক্ষাকবচ ছিল ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এদিনই মানিক ভট্টাচার্যকে আদালতে হাজির করে, তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চাইবে ইডি।

পার্থ-মানিক যোগাযোগ
নিয়োগ দুর্নীতিতে যে মানিক ভট্টাচার্য জড়িয়ে তা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানতেন বলেই দাবি ইডির। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দেওয়া ইডির চার্জশিটে মানিক ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ ছিল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মানিক ভট্টাচার্য সম্পর্কে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলেও চার্জশিটে উল্লেখ করেছিল ইডি। এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে মানিক ভট্টাচার্য সম্পর্কে অভিযোগ করলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সেই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা সরাসরি মানিক ভট্টাচার্যকেই পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
শুধু প্রাথমিকে নিয়োগে দুর্নীতিই নয়, নদিয়ার বেসরকারি ডিএলএড এবং বিএড কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার নামেও টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ টেটের রেজাল্টের তালিকা নিয়ে ইন্টারভিউয়ের নম্বর না বসিয়ে, কোন সিল ছাড়া তা দেখিয়ে টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও পার্থ চট্টোপাধ্যায় এসএমএস করে মানিক ভট্টাচার্যকে নির্দেশ পাঠাতেন, সেই মতো কাজ করতেন তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি।












Click it and Unblock the Notifications