রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির জালে আরও এক! শঙ্কর আঢ্য ঘনিষ্ঠ গ্রেফতার, বুধবারই আদালতে পেশ
রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির আজে আরও এক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করেছে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা শঙ্কর আঢ্য ঘনিষ্ঠ বিশ্বজিৎ দাসকে। এদিনই তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এনিয়ে রেশন দুর্নীতি মামলায় চতুর্থ গ্রেফতার। ইডির অভিযোগ বিশ্বজিৎ দাসের সংস্থার মাধ্যমেও রেশন দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল হতেই সল্টলেকের আইবি ব্লকে বিশ্বজিৎ দাসের বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। তারপর থেকে বুধবার সকাল পেরিয়েও তল্লাশি অভিযান জারি থাকে। মঙ্গলবার বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন ইডি আধিকারিকরা। বিশ্বজিৎ দাসকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে আইবি ব্লকের বাড়িতে আসতে বলা হয়। কিন্তু তা হয়নি। রাত নটা নাগাদ বিশ্বজিৎ দাসকে তাঁর নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন ইডি আধিকারিকরা।

ইডি সূত্রে খবর এই বিশ্বজিৎ দাস বনগাঁর বাসিন্দা। শঙ্কর আঢ্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশ্বজিৎ দাসের নাম উঠে আসে। তারপর মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। বিশ্বজিৎ দাসের ফরেক্সের ব্যবসা রয়েছে। এছাড়াও তাঁর আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা রয়েছে বলে ইডির সূত্রে দাবি।
সেখানে এই রেশন দুর্নীতির টাকা খাটানো হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি বাড়ির সামনে রাখা বিলাস বহুল গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে প্লাস্টিক উদ্ধার করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশি চলাকালীন বিপুল পরিমাণ হাওয়ালা সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। তারপরেই বিশ্বজিৎ দাসকে গ্রেপ্তারির সিদ্ধান্ত নেয় ইডি। বুধবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, যে সময় তল্লাশি চলছিল সেই সময় ওই ব্যবসায়ী বাড়িতে ছিলেন না। বিমানবন্দর থেকে কার্যত তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
মঙ্গলবার সকালে পঞ্চাশ থেকে ষাট জন অফিসার কলকাতা-সল্টলেকের অন্তত ছয়টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন। গত কয়েকদিনে বেশ কিছু নতুন তথ্য হাতে আসে ইডির। তারপরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
ইডির অফিসাররা সল্টলেকের বাড়িতে ঢোকার সময় দরজায় নক করেন। এক মহিলা বেরিয়ে এলে, তাঁকে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখানো হয়। তারপর বাড়িতে ঢোকেন ইডির অফিসাররা। বাড়ির দুটি গেটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পোস্টিং করে দেওয়া হয় এবং নির্দেশ দেওয়া হয়, কেউ যাতে বাড়ির বাইরে বেরোতে না পারেন।
মঙ্গলবার ইডির আধিকারিকরা বিধাননগর ছাড়াও মেট্রোপলিটন, মধ্য কলকাতা, পোর্ট, বাগুইআটি এলাকায় তল্লাশি চালান। উল্লেখ করা যেতে পারে, ইডির আধিকারিকরা এর মধ্যে জেল হেফাজতে থাকা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং শঙ্কর আঢ্যকেও জেরা করেন এবং তাদের হাতে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন।












Click it and Unblock the Notifications