খুচরো নিয়ে বচসা, লোহার রড দিয়ে মহিলার মাথা ফাটাল অটোচালক

পুলিশ সূত্রের খবর, মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা-পার্ক সার্কাস রুটের একটি অটোতে উঠেছিলেন ওই মহিলা। পার্ক সার্কাস পৌঁছে যখন ভাড়া দিতে যান, অটোচালক খুচরো দিতে বলে। মহিলা বারবার বলতে থাকেন, খুচরো নেই তাঁর কাছে। বচসা চলতে চলতে হঠাৎ ওই অটোচালক অটোর ভিতর থেকে একটি লোহার রড বের করে হামলা চালায়। রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। মারের চোটে ওই মহিলা যাত্রীর মাথা ফেটে গিয়ে ঝরঝর করে রক্ত পড়তে থাকে। তিনি চিৎকার শুরু করে দেন। মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় চেঁচাতে দেখে স্থানীয় মানুষরা এসে অটোচালকে ধরে উত্তমমধ্যম দেয়। খবর যায় কড়েয়া থানায়। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
প্রসঙ্গত, কলকাতায় অটোচালকদের মস্তানি নতুন কিছু নয়। গত ১৫ জানুয়ারি খুচরো নিয়ে বচসার জেরে তারাতলায় এক তরুণীকে নাকে ঘুষি মারে অটোচালক। গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিক্রমগড় বাজারে এক যুবককে বেধড়ক পেটায় অটোচালক। তিনি অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে। ৯ সেপ্টেম্বর পার্ক সার্কাসে এক যাত্রীর গলার ব্লেড চালিয়ে দেয় অটোচালক। ওই যাত্রীর সঙ্গে খুচরো নিয়ে বচসা হয়েছিল। অনুরূপভাবে ২ আগস্ট এবং ১৫ মার্চ যথাক্রমে বালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ায় খুচরো নিয়ে বচসার জেরে যাত্রীদের চড়থাপ্পড় মারে অটোচালকরা। ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট বরানগরে চলন্ত অটো থেকে একটি শিশু পড়ে যায়। মা অটো থামাতে বললেও চালক অটো থামায়নি। উল্টে গালিগালাজ করে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা অটোচালকদের লাই দেয়। বাম আমলে সিপিএম দিত। এই আমলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে। রাজনীতিক বদান্যতায় এত বেপরোয়া অটোচালকরা। ভারতের অন্যান্য শহরে তবু পুলিশকে ভয় পায় অটোচালকরা। কিন্তু, কলকাতায় পুলিশকে অটোচালকরা পিটিয়েছে, এমন নজিরও আছে। রাজনীতিবিদদের আশীর্বাদ যতদিন কলকাতার অটোচালকদের মাথায় থাকবে, ততদিন পুলিশ তাদের টিকিও ছুঁতে পারবে না।












Click it and Unblock the Notifications