কোরান-গীতার সহাবস্থানে মানবতার বার্তা দিয়ে দুর্গা পুজোর ঢাকে কাঠি
দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই হেরিটেজ তকমা পেয়েছে ইউনেস্কোর তরফ থেকে। সারা বাংলায় মানুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মাতেন এই পুজোকে কেন্দ্র করে। দুর্গোৎসব যে মহা মিলনের উতসব তা বাঙালির কিংবা বলা ভালো এই বাংলার মানুষের চেয়ে ভালো কেউ জানে না। এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বয়ে আসছে বিতর্কের ঝড় এবং এসবের কেন্দ্রে নূপুর শর্মা এবং তাঁর মন্তব্য। এর জের একদম শেষে এসে পড়েছে বাংলায়। এবং মুসলিম সমাজের প্রতিবাদ সামলাতে কার্যত নাস্তানাবুদ হয়ে যায় পুলিশ প্রশাসন। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যখন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তখন সেই দুরত্ব ঘোচাতে মা দুর্গার স্মরণাপন্ন হয়েছে অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাব।
পয়গম্বর বিতর্ক নিয়ে দেশ উত্তাল। বাংলাতেও তার আঁচ পড়েছে। ভারতের বাইরের দেশেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্বজনীন পুজো। তাই এই বাংলা বিশ্বকে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে। বাংলার সংস্কৃতি আসল ভারতবর্ষের সংস্কৃতিকে মনে করানোর জন্য অভিনব ভাবে শারদ উৎসবের সূচনা করল অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাব। হিজাব পড়ে মুসলিম মহিলারা এলেন কোরআন হাতে, হিন্দু মহিলারা লাল পাড় শাড়ি পড়ে গীতা হাতে নিয়ে এলেন বিশ্বজনীনর দরবারে। শারদ উৎসবের সূচনা এবং ঘোষণা হল এমন অভিনব ভাবেই। অন্ধকারকে সরিয়ে নুতনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন সত্যি করার জন্য এমন অভিনবভাবে খুঁটি পুজো করল অর্জুনপুর আমরা সবাই। পড়ল ঢাকে কাঠি।
গীতা হাতে লাল পাড় সাড়ি পরিহিতা এক মহিলা জানালেন যে, "অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাব এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। মা দুর্গার আগমনী বার্তা সবাই পৌঁছে দেবেন কিন্তু এ বড় কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। তো এমন এক সময়ে উতসবটা যাতে সবাই একসঙ্গে পালন করতে পারি তাই আমরা এখানে সবাই একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছি। মা তো নির্দিষ্ট কারও নন, সবার। তাই হিন্দু , মুসলিম , শিখ, ইশাই সবাই একসঙ্গে এসে আমরা এই কঠিন সময়ে এক মঞ্চে হাজির হয়েছি।"

হিজাব পরিহিতা মহিলা জানালেন , 'দুর্গা পুজো আসলে একটা উতসব। এটাকে শুধু পুজো হিসাবে দেখলে হবে না। ওই সময়ে তো আমরা সবাই একসঙ্গে মিলে এই সময়ে সারা দিন , সারা রাত আনন্দ করি। আমরা সবাই জানি যে কী সমস্যা চলছে দেশে। এমন সময়ে যদি আমরা একসঙ্গে থাকি তাহলে সেটা শুভ বার্তা ছড়িয়ে যাবে সারা দেশে। তাই এই উৎসব প্রাঙ্গনে আমরা হাজির হয়েছি।"












Click it and Unblock the Notifications