দেবতাদের তেজপুঞ্জ থেকে মহামায়ার আবির্ভাবের মহাজাগতিক প্রকাশ দেখাবে সেলিমপুর পল্লি

দুষ্টের দমন হেতু আবির্ভূতা দেবী দুর্গার মহামায়া প্রকাশের মহাজাগতিক গাথাই এবার মাতৃবন্দনার থিম। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরসহ দেবতাদের দ্বারা মহামায়ার মহাজাগতিক নির্মাণশৈলীকেই মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছে দক্ষিণ কলকাতার সেলিমপুর পল্লি।

তখন ব্রহ্মার বরে অমিতশক্তির অধিকারী মহিষাসুর স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছেন পরাক্রমী দেবতাকূলকে। এক নারীশক্তি ছাড়া ত্রিভূবনে অপারজেয় মহিষাসুর। স্বর্গের দেবতাদের মুখে তাঁর অত্যাচারের কাহিনি শুনে ক্রোধানলে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর ও সমস্ত দেবকূলের শরীর থেকে তেজরশ্মি উন্মোচিত হয়ে উৎপন্ন হয়েছিল পরমা রূপবতী দিব্য স্ত্রী মূর্তি। তিনিই জগন্মাত্রিকা মহামায়া। অপরূপ রণচণ্ডীমূর্তির অধিকারিনী।

মহামায়ার আবির্ভাবের মহাজাগতিক প্রকাশ দেখাবে সেলিমপুর পল্লি

থিমের নাম 'নির্মিত'। সেলিমপুর পল্লির বিষয় ভাবনায় তেজপুঞ্জ থেকে মহামায়ার সেই অপরূপ রূপ অসাধারণ শিল্পনৈপূণ্য ফুটে উঠেছে। পুরাণে বর্ণিত ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অনন্তশয্যায় যোগনিদ্রা থেকে শুরু করে দেবতাদের তেজপুঞ্জ থেকে দশপ্রহরণধারিনীর সুসজ্জিত হয়ে অসুরবিজয়যাত্রা বর্ণিত হয়েছে এই মণ্ডপসজ্জার পরতে পরতে। আর এই মণ্ডপ পরিকল্পনার অদ্বিতীয় কারিগর থিমশিল্পী পিয়ালি সাধুখাঁ, সৌমিক চক্রবর্তী ও প্রদীপ পাত্র। তাঁদের হাত ধরেই গোটা মণ্ডপ হয়ে উঠেছে মহাজাগতিক।

থিমশিল্পীদের কথায়, দশপ্রহরণধারিণীর নির্মাণকে ফুটিয়ে তোলার জন্য গোটা মণ্ডপে আমরা বসিয়েছি দেবতাদের মুর্তি। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর তো আছেনই। এছাড়া মণ্ডপের চারধারে বসেছে অন্যান্য দেবতাদের মুর্তিও। মোট দশ দেবতার মূর্তি আমরা বসিয়েছি। কোনও মূর্তিই কিন্তু মাটির নয়। প্রত্যেকটি ফাইবারের মূর্তি। সেই সমস্ত দেবমূর্তি থেকে নির্গত তেজরশ্মি একত্রিত হচ্ছে একটি জায়গায়।

সেখানেই অবস্থান মহামায়া দেবী দূর্গার। তিনি দশপ্রহরণধারিনী দশভূজা রণসাজে সুসজ্জিতা। অবশ্যই দেবীপ্রতিমা মৃন্ময়ী৷ দেখানো হয়েছে দেবতাদের শরীর থেকে নির্গত তেজরাশি সৃজন করছে জগন্মাত্রিকাকে।

শুধু মণ্ডপসজ্জায় এই ভাবনার অবতারণা করেই ক্ষান্ত থাকেননি থিমশিল্পীরা। যেহেতু প্রতিমাকে ঘিরেই থিমের বিষয়ভাবনা, সেহেতু প্রতিমাও গড়ছেন তাঁরা। অর্থাৎ থিমশিল্পীরাই হয়ে উঠেছেন মৃৎশিল্পী। সৌজন্য সেলিমপুর পল্লির মাতৃবন্দনা। গোটা মণ্ডপটিই তৈরি হয়েছে কাঠ দিয়ে। কাঠের উপর নানা কারুকার্য রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বাহারি আলোকসজ্জা।

আসলে সেলিমপুর পল্লির এই পুজো মণ্ডপ এবারে যে বিষয়ভাবনার অবতারণা করেছে, তা মণ্ডপ, প্রতিমা আলোক তিন শিল্পের সমন্বয়ে তৈরি। তিন ধরনের শিল্পীদের শৈলী একত্রিত হলেই তবে জাগরিত হবেন অপরূপা মহামায়া। এবছর ৮৪ বছরে পা দিয়েছে পুজো৷ অন্যান্য বছরের মতোই এবারও অনন্য হয়ে ওঠার প্রয়াস রয়েছে উদ্যোক্তাদের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+