রাশিচক্রে ঘোরে ভাগ্যের চাকা, দেখাবে বাদামতলা
ঘুরছে রাশিচক্র। তারই তালে তালে ঘুরছে মানুষের ভাগ্যের চাকাও। অনেকেই মানেন রাশি চক্রই জীবনের নিয়ন্তা। দ্বাদশ রাশির আবর্তে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খায় প্রতিটা মানুষের জীবন৷ আবার আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রভাবেই কাটিয়ে ওঠা যায় সেই রাশিচক্রের কুপ্রভাব।
ওঁরাই উৎসবের কাণ্ডারি, ওঁদের হাত ধরেই মা আসেন মর্ত্যে!
অবশ্য অনেকে বিশ্বাই করেন না সেসব। তাতে অবশ্য কিছু এসে যায় না। কারণ পুরোটাই বিশ্বাসের ব্যাপার। কথাতেই আছে না, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। তবে তর্ক করে বিশেষ লাভ নেই। বিশ্বাস করুন বা না করুন, রাশি চক্রের প্রভাবে মানুষের জীবন ধারার সেইসব পরিবর্তন আর কীভাবে দুর্গতিনাশিনীর কৃপায় মুক্ত হওয়া যায় সেই কুপ্রভাব থেকে, তাই এবার তুলে ধরেছে বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ। থিম-'রাশিচক্র'-এর মণ্ডপসজ্জায় লেগেছে পাঁচ কোটি ইটের টুকরো!

দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী এলাকার নজরকাড়া পুজো এটি। বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ প্রতিবারই নতুন ভাবনা তুলে ধরে দর্শনার্থীদের সামনে৷ এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না৷ মণ্ডপের দেওয়ালে থাকছে ১২টি রাশির চক্র৷ সেই রাশি চক্রের চারধারে ঝোলানো থাকবে ইটের টুকরো, যা শিল্পীর নৈপুণ্যে রূপ নিয়েছে কোথাও খিলান, কোথাও পিলার আবার কোথাও গম্বুজের।
বসিরহাট থেকে আনা হয়েছে ইট। তা ভেঙে তৈরি হয়েছে ঢিল। কারিগররা রাশি রাশি সেই ঢিল দিয়েই সাজিয়ে তুলেছেন মণ্ডপ। মণ্ডপের চারপাশ ও প্রবেশপথও সেজে উঠছে ইটের ঢিল দিয়েই। অসমান এই ইটভাঙার মধ্যেই থাকবে নানান আলোর কারসাজি৷ মূল মণ্ডপে দেবীপ্রতিমার সামনে থাকছে একটা বিশালাকার সূর্য৷ মণ্ডপের গর্ভগৃহে সেই সূর্যকে ঘিরেই আবর্ত হচ্ছে নবগ্রহ৷ সবার উপরে অধিষ্ঠান দেবাদিদেব মহাদেবের৷ মাথার উপরে যে বিশাল পদ্ম, তাও তৈরি হয়েছে ওই ইট দিয়েই।ইটের মাঝে বৈচিত্র্য আনতে কোথাও কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে গ্লাস পেন্টিং৷
পোড়ামাটির রঙের মধ্যে বর্ণময় ওই গ্লাস পেন্টিংই রঙের ছটায় মোহময় করে তুলবে মণ্ডপ চত্বরকে।থিম ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী অনির্বাণ দাস৷ গত বছর এই পুজো 'ডান্ডিয়া' থিমে সাজিয়েছিলেন তিনি। এবার মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি, প্রতিমার দায়িত্বও মণ্ডপশিল্পীরই৷ মণ্ডপশিল্পী অনির্বাণ দাস জানিয়েছেন, গ্রিক দেবীর আদলে তৈরি হচ্ছেন দেবী দুর্গা।












Click it and Unblock the Notifications