সতীদাহের ঘাটেই শুরু নারীশক্তির আরাধনা, দুর্গা পুজোর পিছনে লুকিয়ে অজানা ইতিহাস
সতীদাহের ঘাটেই শুরু নারীশক্তির আরাধনা, দুর্গা পুজোর পিছনে লুকিয়ে অজানা ইতিহাস
করোনাকালে দুর্গা পুজোর দিনগুলোয় বারোয়ারির সর্বত্রই এখন নো এন্ট্রি জোন। ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতেই হাই কোর্টের নির্দেশে কলেজ স্কোয়ার থেকে কুমোরটুলি, বাগবাজার থেকে বড়়িশা! সর্বত্রই দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ। পুজোর উদ্যোগতাদের নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

যারপর অনেক বনেদি বাড়ির পুজোতেও পরিবারের সদস্যদের ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জানানো হচ্ছে। ঘুরে নয় ঘরে বসেই তাই এবছর টিভিতে কিংবা অনলাইনে পুজোর আনন্দে শহরবাসীকে মেতে উঠতে হবে। এর মাঝেই একনজরে কলকাতার বারোয়ারি পুজোর ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
বাংলায় প্রথম বারোয়ারি পুজো ঠিক কবে শুরু হয়েছে সেই নিয়ে আজও অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। ব্রিটিশ কালে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী, হুগলী জেলার বলাগড় ব্লকের অন্তর্গত গুপ্তিপাড়ায় আনুমানিক ১৭৯০ সালে সর্বপ্রথম বারোয়ারি পুজোর প্রচলন হয়।
জনশ্রুতি মতে পাড়ার ১২ জন বন্ধু মিলে সেই দুর্গা পূজা নতুনভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে পুজো শুরুর এই সময়কাল নিয়ে অনেক ভিন্ন মতামত রয়েছে। উর্দু ভাষায় বন্ধুকে বলা হয় 'ইয়ার'। আর সেই বারো জন ইয়ার মিলে যে দুর্গা পূজার শুরু করেছিলেন বলেই বারোইয়ারী পূজা বা বারোয়ারি পূজা বলে অভিহিত করা শুরু হয়। যদিও ইতিহাসে এই পুজোকেই প্রথম সার্বজনীন পুজো বলা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
এবার শহর কলকাতার প্রথম বারোয়ারি পুজোর ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। জনশ্রুতি মতে এক সময়ে হিন্দু পরিবারের দুই বিধবা নারী বলরাম বসু ঘাটে সতী হয়েছিলেন। ভবানীপুর সনাতনী ধর্মোৎসাহিনী সভার ১২ জন বন্ধুর উদ্যোগে সেই ঘাটেই ১৯১০ সালে কলকাতার প্রথম বারোয়ারি পুজো শুরু হয়।
সতীদাহ প্রথা মেনে দুই বিধবাকে যেখানে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, সেই বলরাম বসু ঘাটেই একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে নারিশক্তির আরাধানা হয়ে আসছে। প্রসঙ্গত কলকাতার রামধন মিত্র লেন ও শিকদার বাগান লেনে ১৯১১ থেকে ১৯১৩ সালের মধ্য়ে দুর্গা পুজো শুরু হয়।
দুর্গাপুজোর সমস্ত খবর, ছবি, ভিডিও দেখুন এক ক্লিকে












Click it and Unblock the Notifications