ঐতিহ্যের দত্তবাড়ি: এই বাড়ির বনেদি পুজোয় দেবীকে কুমারী ও সধবা দুই রূপে পুজো করা হয়
কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোয় লুকিয়ে নানা ইতিহাস, শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বনেদি বাড়ির পুজো। উত্তর কলকাতার বলরাম দে স্ট্রিটের দত্ত বাড়ির পুজো এবার পা দিল ১৩৮ তম বর্ষে।
কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোয় লুকিয়ে নানা ইতিহাস, শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বনেদি বাড়ির পুজো। উত্তর কলকাতার বলরাম দে স্ট্রিটের দত্ত বাড়ির পুজো এবার পা দিল ১৩৮ তম বর্ষে।

পুজো শুরুর ইতিহাস
উত্তর কলকাতার পুরনো বনেদি বাড়ির পুজো বললে, যে পুজোগুলোর কথা মনে আসে, তার মধ্যে অন্যতম দত্ত বাড়ির পুজো। গিরীশ পার্ক মেন্ট্রো স্টেশন থেকে মিনিট পাঁচেকের হাঁটা পথ বলরাম দে স্ট্রিট। সেখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে দত্তবাড়ি। পরিবারের সদস্য অরিত্র বিশ্বাসের থেকে জানা গেল পুজো শুরুর ইতিহাস। বলরাম দে স্ট্রিটের দত্তবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামল ধন দত্ত। তিনি ছিলেন হাটখোলা দত্ত বাড়ির ছেলে। ১৮৮২ সালে বলরাম দে স্ট্রিটে বাড়ি কিনে, সেবাড়ির ঠাকুর দালানে তিনি দুর্গা পুজো শুরু করেন। হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন শ্যামল ধন দত্ত। ছোট মেয়ে রাজলক্ষ্মী দেবীর পুত্র সন্তান হওয়ার আনন্দে শ্যামল ধন দত্ত এই দুর্গা পুজো শুরু করেন।

প্রতিমার আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্য
প্রতিমার চালচিত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এবাড়ির পুজোর চালচিত্র মঠচৌরি আদলের। প্রতিমার সিংহের ঘোটকরূপ। এবাড়ির প্রতিমার শাড়ি বাড়িতে আঁকা হয়। প্রতিমার আঁচল, বাড়িতেই রং-তুলি দিয়ে আঁকা হয়। দুর্গা-সরস্বতী-কার্তিক-গণেশ-অসুরের সমস্ত অস্ত্র রুপোর ও আর দেব-দেবীর গহনা সব সোনার।

দেবীকে কুমারী ও সধবা দুই রূপে পুজো করা হয়
এ বাড়িতে তিন দিন কুমারী পুজোর নিয়ম। এবাড়ির দুর্গা পুজোয় সবচেয়ে বড় অভিনবত্ব , দেবীকে কুমারী ও সধবা দুই রূপে পুজো করা হয়। কুমারী পুজোর পাশাপাশি এই বনেদি বাড়িতে পরম্পরা ধরে রেখে তিনদিন ধরে সধবা পুজো হয়। বাড়ির পরিবারের কাছে দেবী মেয়ে! সেকারণে মা দুর্গাকে কুমারী রূপে পুজোর রীতি। সেই সঙ্গে মা দুর্গা যেহেতু সধবা সেকারণে তাঁকে সধবা রূপেও পুজো করা হয়। অন্য বাড়ির পুজোয় নবমীর দিনে সধবা পুজো হয়। এবাড়িতে সেখানে পুজোর তিন দিন এই পুজো হওয়ার নিয়ম।

পুজোর ভোগ
এবাড়ির পুজোয় অন্নভোগের রীতি নেই। সাত রকমের শুকনো ভোগের নিয়ম। নোনতার মধ্যে রাধাবল্লভী, শুকনো কচুরী ও নিমকি আর মিষ্টির মধ্যে লেডিকেনি, দরবেস, নারকেল নাড়ু ও গজা। পুজোর প্রতিদিন সকাল ও রাতে দেবীকে এই সাত রকমের ভোগ দেওয়া হয়।

দশমীতে কাঁধে করে বিসর্জন
দশমীর দিন কাঁধে করে বিসর্জনের রীতি রয়েছে। সেই সঙ্গে পরম্পরা মেনে দশমীতে এই বাড়িতে দরিদ্র নারায়ণ সেবার নিয়ম চলেছে আসছে। ঐ দিন খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications