রূপান্তরকামীর আদলে তৈরি দুর্গা, মনাবীর এমন চিন্ময়ী রূপ কোথায় দেখতে পাবেন? জেনে নিন
দেবীকে মানবী কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দর দেবী মূর্তির কপালে শিল্পী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় পড়িয়েছিলেন পূর্ণচন্দ্র লাল বড় টিপ বা চন্দ্রঘন্টেতি। যুবকবৃন্দর খুঁটি পূজা হয়েছিল মা সারদার ছবিতে পূজা করে! এখানে দেবী সারদা শারদমাতৃকা, কিন্তু চমক অন্য জায়গায়। কারণ চমক অন্য জায়গায়। এখানে দেবী মূর্তি তৈরি হয়েছে রূপান্তরকামী এবং অধ্যাপিকা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদলে।

কী বলেছেন অধ্যাপিকা?
এই প্রসঙ্গে অধ্যাপিকা বলেছেন, "জীবনে কত কিছুই ঘটতে পারে? আমি কখনো ভেবেছিলাম বেঁচে থাকতেই আমি দেবী পদমর্যাদা পাব? ভেঙে পড়ার সেই দিনগুলোতে যদি আত্মহননের পথ বেছে নিতেম দেখতে পেতেম কি এই দিনগুলো? আজ আমার মতোই কাপড় মণ্ডপের মা পরছেন!

আমার আদলে
তিনি বলেন, "আমার আদলে তৈরি হচ্ছে ধ্যান মগ্ন মা দুর্গা! মানবীর মধ্যে খুঁজে পাওয়া দেবী! মানুষই দেবতা গড়ে! / তাহারই কৃপার পরে করে দেব মহিমা নির্ভর! মনে পড়ে ছোটোবেলায় আমার মধ্যে নারীত্বর তরঙ্গ দেখে আমার অভিভাবক বোঝাতেন তুমি পুরুষ, তুমি পুরুষ সিংহ, তোমাকে পুরুষ সিংহ হয়ে উঠতে হবে, আমি বার বারই বলে এসেছি সিংহ নয়, আমি সিংহবাহিনী হয়ে উঠতে চাই! আমার ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজে পড়ার সময় আমাদের ইকোনমিক্সের প্রফেসর স্বদেশ বাবু একবার কলেজ পিকনিকে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন আমার নারীত্ব দেখে সমাজে আমি কিভাবে সারভাইভ করব!"

দিদির জন্মর অনেক বছর পর
একইসঙ্গে তিনি বলেন, "দুই অগ্রজা দিদির জন্মর অনেক বছর পর , আমার মায়ের অনেক সাধনায় মা অন্নপূর্ণার কৃপায় যখন আমার জন্ম হল, তখন আমি গর্ভে থাকাকালীন আমার মা, মা লক্ষ্মীর ঘটের কলা খেয়েছিলেন! যেন পুত্র সন্তান হয় এই কামনায়! পুত্র সন্তান হোলো কলার প্রতীকে কিন্তু লক্ষ্মী রয়ে গেলেন তাঁর ঘটের কলার সঙ্গে!"

দেবী চণ্ডিকা
তাঁর কথায়, অনেক নিধিধ্যাসনে অধ্যবসায়ে জেনেছি দেবী চণ্ডিকা আমার মতো আমাদের মতো নারী, যদিও এখনো এই নিয়ে বিশেষ কথা হয় না! কারণ আমার দুর্গা দাঁড়িয়ে থাকে ট্রাফিক সিগন্যালে / আমার দুর্গা হাত পাতে ভোলানাথের চালে! আমি আশান্বিত একদিন সবাই বুঝবে! এই দুর্গাদের পূজা হবে ঘরে ঘরে! নবরাত্রি ঘিরে থাকুক এই দৈবী অনুভূতি
শারদীয়া নবরাত্রিতে মা দুর্গার পুজোর উৎসব আয়োজিত হয়। এই নদিন লোকেরা দেবীর আরতি, পুজো করে থাকেন এবং মায়ের বিশেষ আশীর্বাদ পেয়ে থাকেন ।হিন্দুরা খুব খুশি মজায় এই নটি দিন কাটিয়ে দেন। এই বছর শারদীয়া উৎসব ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে অর্থাৎ আজ থেকে। যা চলবে অক্টোবর পর্যন্ত, ৫ অক্টোবর দশমীর দিন পর্যন্ত। আর এই দিনেই দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন হয়। নবরাত্রির এই নটি দিন দেবীকে নানানরূপে পুজো করা হয়।দেবী দুর্গা, মাতা শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘন্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রীর নয়টি রূপের পুজো হয় এইসময়ে। নবরাত্রির প্রতিটি দিন মায়ের একটি এক একটি রূপকে উৎসর্গ করে পুজো করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications