পেটে খিদের জ্বালা নিয়েই মণ্ডপে মাতিয়ে তোলেন ওঁরা, দুর্গা-বোধনের আগে মর্যাদা প্রার্থনা
পেটে খিদের জ্বালা। এখনও জোটেনি সরকারি অনুদান। পুজোর মরশুম এলে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেই সারা বছরের রুটি-রুজির জোগাড় করতে বের হল তাঁরা।
পেটে খিদের জ্বালা। এখনও জোটেনি সরকারি অনুদান। পুজোর মরশুম এলে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেই সারা বছরের রুটি-রুজির জোগাড় করতে বের হল তাঁরা। মহাসপ্তমীর দিন শিয়ালদহ স্টেশন হয়ে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে রওনা হওয়ার আগে তাঁরা শিল্পী কার্ডের পাশে ভাতা প্রদানের দাবি তুললেন। আবেদন জানালেন, সরকার এবার তাঁদের শিল্পীর মর্যাদা দিক। তাদের কথাও ভাবুক।

প্রতি বছরই শিয়ালদহ স্টেশনে মহরা শুরু করেন ঢাকিরা। তারপর পঞ্চমীর দিন এখান থেকে কলকাতার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপগুলোতে রওনা দেন। মহালয়ার দিন থেকেই বাংলার বিভিন্ন জেলার ঢাকিপাড়ায় বোল তুলে ঢাকিরা পাড়ি দেয় কাজের সন্ধানে। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজো কটা দিন মাতিয়ে রাখেন এই ঢাকিরাই।
যাঁরা দূরদেশে পাড়ি দেন তাঁরা অবশ্য অনেক আগেই রওনা দেন। কেউ বা যান দিল্লি, কেউ বা মুম্বই, কেউবা গুয়াহাটি। দুর্গা মণ্ডপে মায়ের আরাধনায় ঢাক ছাড়া যে অচল। কলকাতার পাশ্ববর্তী জেলাগুলোয় রওনা হওয়ার জন্য ঢাকিরা মহালয়ায় রওনা দিয়ে পঞ্চমীতেই শিয়ালদহে হাজির হন। এখান থেকেই কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা তাদের নিয়ে যান।
প্রতি বছরই বাংলা থেকে ৫০০০-এর বেশি ঢাকি পাড়ি দেয় ভিনরাজ্যে। বিদেশের পুজো মণ্ডপগুলোতে ও যোগ দেয় অনেকে। ঢাকের বোল তুলে মানুষের মনে আনন্দ দান করলেও সারাবছর নিজেরা থাকেন নিরানন্দে। পুজোর সময় দুটো পয়সা উপার্জন করলেও বছরের বাকি সময়গুলোতে তারা থাকে চরম অর্থকষ্টে।
পুজো শেষ হওয়ার পরে কিছুদিন স্বচ্ছন্দে চলে। তারপর আবার ঘরেতে অভাব। ওঁদের পৃথিবীটা কালো ধোঁয়া হয়ে যায়। তারপর দিন গুজরানের জন্য কেউ ভ্যান রিকশা চালান, কেউবা দিনমজুরির কাজ করেন। রতন বৈশ্য, সনাতন বৈশ্যদের রোজনামচা বলতে এই। পুজোর সময়েই দুটো রোজগার। তাও চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সারা বছরই তাই চরম আর্থিক অনটনে দিন গুজরান হয় ওঁদের।
রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, রাজ্য সরকার অন্যান্য বাদ্যকরদের শিল্পী ভাতা প্রদান করছেন। তাঁরা ঢাক বাজান, তাঁরাও শিল্পী অথচ সরকার আজও তাঁদের শিল্পীর মর্যাদা দেয়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে জেলা প্রশাসন সকলের কাছেই দরবার করেছেন তাঁদের শিল্পী কার্ড করে ভাতা প্রদানের ব্যাবস্থা করার জন্য। এবার যেন তাদের কথাও ভাবে রাজ্য সরকার।












Click it and Unblock the Notifications