Dona Ganguly: লন্ডনে দুর্গাপুজোয় ডোনার টানা অনুষ্ঠান, শহরে ফিরতে হয়তো নবমী, কাল বিশেষ বার্তা দেবে দীক্ষামঞ্জরী
Dona Ganguly: লন্ডনে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দীক্ষামঞ্জরীর অনুষ্ঠান আরজি কর কাণ্ডে তাঁর মন্তব্যের কারণেই বাতিল হয়েছে অনেকে দাবি করছেন। সোশ্যাল মিডিয়াও ডোনাকে নিয়ে ফের সরগরম।
যদিও বাস্তব হলো, তেমন কিছুই ঘটেনি। পুজোর পঞ্চমী থেকে সপ্তমী অবধি লন্ডনে টানা অনুষ্ঠান রয়েছে ডোনার দীক্ষামঞ্জরীর। তার আগে কাল কলকাতায় দুর্গতিনাশিনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে পারফর্ম করবেন ডোনা ও তাঁর শিক্ষার্থীরা।

সেই অনুষ্ঠানেরই চূড়ান্ত মহড়ার ফাঁকে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে বললেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বা নানা জায়গায় কে কী বলছেন তা নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। লন্ডনের যে অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে তাঁরাই জানিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে নৃত্যানুষ্ঠান রাখতে চাইছেন না। তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।
বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি রিডিংয়ের যে ই-মেলটি ভাইরাল হয়েছে তাতে কোথাও আরজি কর কাণ্ডের উল্লেখ নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে ডোনার বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যই এই অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডোনা বলেন, আমরা শিল্পী। প্রতিবাদ জানাতে পারি মঞ্চের উপস্থাপনার মাধ্যমেই। সে কারণেই তাসের দেশ মঞ্চস্থ করছি। আমরা বরাবর মহালয়ার আগে অনুষ্ঠান করি। সেখানে আগমনীর আবহ থাকে। এবার আমাদের অনুষ্ঠান দুর্গতিনাশিনী- অজেয়া, অটলা, অপরাজিতার আবাহনী।
ডোনার কথায়, দীক্ষামঞ্জরী আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ করেছে। আমিও মিছিলে হেঁটেছি। আমার নিজের মেয়ে আছে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মেয়ে। অনুষ্ঠান সেরে তাঁদের নিয়ে রাতে ফিরি। ফলে আরজি করে যা ঘটেছে তাকে কেউ সমর্থন করতে পারে না। পাপমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে, মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে পারি। সেটাই করছি আমাদের উপস্থাপনার মাধ্যমে।
ডোনা বলেন, আমরা কাল যে মহালয়ার অনুষ্ঠানটি করছি সেটা প্রার্থনাসভাই। সুস্থ, স্বাভাবিক সমাজ, দুষ্টের দমনের প্রার্থনার সঙ্গে শান্তি যাতে বিরাজ করে সেই বার্তা দিতেই অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। অন্যান্যবারের মহালয়ার অনুষ্ঠানের তুলনায় এই পরিবেশনা এবার স্বতন্ত্র।
ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর দীক্ষামঞ্জরীর টিম নিয়ে থাকবেন লন্ডনে। ৮ অক্টোবর মানোর পার্কে রবিদাস কমিউনিটি সেন্টারে হিন্দু সোসাইটি ইউকে-র উদ্যোগে হবে মহালয়া শীর্ষক অনুষ্ঠান। এরপর ৯ অক্টোবর সুইস কটেজ লাইব্রেরিতে দক্ষিণায়ন ইউকে ও দীক্ষামঞ্জরীর পরিবেশনা- মহিষাসুরমর্দিনী। যাতে শান্তি ও সংহতির পাশাপাশি ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিশেষ বার্তা দেওয়া হবে।
১০ অক্টোবর সুইস কটেজ লাইব্রেরিতেই থাকছে দক্ষিণায়ন ইউকে ও দীক্ষামঞ্জরীর পরিবেশনা- গুরুদেবের কথায় তাসের দেশ। সেই অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা- প্রিয়জনকে হারিয়ে কেউ কি উৎসব করে! যদি তাঁর মন বা মনুষ্যত্ত্ব থাকে!!! প্রতিবাদ চলবে। আমার সুর, তোমার সুর মিশে মিশে হয় সেই অন্তহীন প্রতিধ্বনি
ডোনার কথায়, প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তাসের দেশ। সেটা আমরা মঞ্চস্থ করছি। দুর্গাপুজোর সঙ্গে অনেকের আর্থিক রোজগার জড়িয়ে থাকে। পুজো কে কীভাবে কাটাবেন তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার। আমাদের শিল্পীদের কাজ, মঞ্চ থেকে বার্তা দেওয়া। একেকজন একেকরকমভাবে সেটা করেন। কলকাতা তথা জেলাতেও অনেক অনুষ্ঠান বাতিল হচ্ছে। লন্ডনেও হয়েছে। আয়োজকদের মতামতকে সম্মান জানাই। তবে এতে বিতর্কের অবকাশই নেই। সৌরভ-ডোনার কন্যা সানা কলকাতায় চলে আসবেন পুজোর আগেই। তবে লন্ডনের ঠাসা অনুষ্ঠান সেরে ডোনা তাঁর দীক্ষামঞ্জরীর টিম নিয়ে কলকাতায় ফিরবেন হয়তো নবমীতেই।












Click it and Unblock the Notifications